নাগরিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো নথিপত্র বা ডকুমেন্টস। জন্ম নিবন্ধন থেকে শুরু করে শিক্ষা, ব্যবসা কিংবা বিদেশ যাত্রা—প্রতিটি ধাপেই কাগজের লড়াই অবধারিত। পরিসংখ্যান বলছে, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা ব্যবসায়িক নথিপত্র নিয়ে কোনো না কোনো সময় ভোগান্তিতে পড়েন। নথির ভুল সংশোধন, অনুবাদ কিংবা সঠিক বিন্যাসের অভাবে অনেকের স্বপ্ন থমকে যায় মাঝপথে। নাগরিকদের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সহজ, নিখুঁত ও আইনি সমাধান নিয়ে দুই বছর আগে যাত্রা শুরু করেছিল দেশের প্রথম ক্যাশলেস কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠান ‘ডকুফাইডস লিমিটেড’।
প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও কার্যক্রম
ডকুফাইডসের প্রতিষ্ঠাতা সাদিক আল সরকার বলেন, সাধারণত একজন শিক্ষার্থী যখন উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে আবেদন করেন, তখন তার একাডেমিক কাগজপত্রের অনুবাদ, নোটারি ও ভেরিফিকেশন সঠিকভাবে না হলে পুরো আবেদনটি বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স, টিন (TIN), বিন (BIN) কিংবা আরজেএসসি থেকে কোম্পানি নিবন্ধন করা একটি পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই শূন্যস্থান পূরণ করতেই ডকুফাইডস তাদের বিশেষজ্ঞ টিম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
সেবাসমূহের বিবরণ
ডকুফাইডস কেবল একটি অফিস নয়, বরং এটি নথিপত্রসংক্রান্ত সমস্যার একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধান কেন্দ্র। তাদের সেবাসমূহের মধ্যে রয়েছে—ই-ফাইলিং ও অর্গানাইজিং : ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক নথিপত্র ডিজিটাল পদ্ধতিতে গুছিয়ে রাখা। ভ্রমণ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট নথি : ভিসা আবেদন ও বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদনের জন্য নিখুঁত ডকুমেন্টেশন। আইনি ও দাপ্তরিক সেবা : কাগজপত্রের ভুল সংশোধন, অনুবাদ, নোটারি পাবলিক এবং ভেরিফাইড সলিউশন। উদ্যোক্তা সহায়ক সেবা : ট্রেডমার্ক, বিজনেস প্রোফাইল তৈরি এবং কোম্পানি নিবন্ধনের আইনি পরামর্শ।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সাদিক আল সরকার আরও বলেন, ‘যারা দেশের বাইরে দক্ষতা অর্জন করতে যেতে চান বা যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তাদের জন্য নির্ভুল ডকুমেন্টেশন নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। গত এক বছরে ডকুফাইডস অসংখ্য মানুষকে জটিল আইনি ও দাপ্তরিক প্যাঁচ থেকে মুক্তি দিয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের লক্ষ্য অর্জনে এ ধরনের স্মার্ট নথিপত্র ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বড় ভূমিকা রাখছে। দুই বছরে পা রাখার এই মাহেন্দ্রক্ষণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সেবার মান আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।



