এসএসসি প্রশ্নপত্রের নামে প্রতারণা: সিটিটিসির জালে চার প্রতারক
এসএসসি প্রশ্নপত্রের নামে প্রতারণা: সিটিটিসির জালে চার প্রতারক

চলমান এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. সিফাত আহমেদ সজীব, মো. সালমান, মো. মেজবাউল আলম মাহি এবং মো. মহিউজ্জামান মুন্না।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সিটিটিসি যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মুনশী শাহাবুদ্দীন জানিয়েছেন, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিল। তিনি বলেন, বর্তমানের প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তাদের দেওয়া প্রশ্নের মিল নেই; তারা প্রতারণার মাধ্যমেই অর্থ হাতিয়ে নিতো।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য

শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত চলমান এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস সম্পর্কিত অনলাইন প্রতারণা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দেন তিনি। মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, গত ২০ এপ্রিল সিটিটিসির অনলাইন ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারির সময় ‘এসএসসি ২০২৬ কোশ্চেন পেপার ফাস্ট পেপার গ্রুপ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ শনাক্ত করে। প্রযুক্তির সহায়তায় ওই পেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকার আশুলিয়ার তাজপুর থেকে অভিযান চালিয়ে সিফাত আহমেদ সজীবকে গ্রেফতার করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযান ও গ্রেফতার

তিনি বলেন, সজীবের স্বীকারোক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণ করে গত ২৩ এপ্রিল বগুড়ার ধুনট থেকে সালমানকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিনে দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জের দাদনপুর মালিপাড়া এলাকা থেকে মেজবাউল আলম মাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশের নওগাঁ ইউনিয়নের শাহ শরীফ জিন্দানি (রহ.) মাজার সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মহিউজ্জামান মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত

মুনশী শাহাবুদ্দীন বলেন, চার জনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিল। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী চলমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে তাদের দেওয়া প্রশ্নের কোনো মিল নেই। তারা মূলত আর্থিকভাবে লাভবান হতে প্রতারণা করেছে এবং চলমান সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই কাজ করেছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসির এই কর্মকর্তা বলেন, তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তারা কতদিন ধরে এই প্রতারণা করে আসছে, কত টাকা নিয়েছে এসব তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। সিটিটিসির স্পেশাল দল এসব নিয়ে কাজ করছে।