ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের সাফল্য: সরকারের নতুন উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও আইডি কার্ড
ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশ: সরকারের নতুন প্রশিক্ষণ ও আইডি কার্ড

ফ্রিল্যান্সিংয়ে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ও সরকারের নতুন পরিকল্পনা

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটে সাফল্যের দিক থেকে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে। দেশের কয়েক লাখ মানুষ এই পেশাকে বেছে নিয়েছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবার সরকার ফ্রিল্যান্সারদের জন্য একটি ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে, যার মধ্যে আইডি কার্ড প্রদান এবং প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা ও পরিকল্পনার বিস্তারিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিনে, নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বিভিন্ন সংস্থা কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

ফ্রিল্যান্সার তৈরির জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতর পাঁচ বছরে এক হাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেবে এবং একই সময়ে দুই লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে সাড়ে সাত হাজার ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এই কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উচ্চপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও অনলাইন সেবার সম্প্রসারণ

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০২৬ সালে দুই হাজার ৪০০ জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মেশিন লার্নিং এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে ৮৩টি সেবা অনলাইনে দেওয়া হচ্ছে এবং আগামী এক বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম শুরু করতে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভিন্ন স্তরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০টি ব্যাচে এক হাজার আন্ডার গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েটদের আইটিইই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিসিসির মাধ্যমে পাঁচ হাজার ২০ জন চাকরি প্রার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের এআই, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

  • স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণসহ এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
  • প্রায় ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

নারী উদ্যোক্তা ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য উদ্যোগ

সরকার প্রধান বলেন, নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ওয়াইফাই (উইমেন ইন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ) বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আইটিইই প্রশিক্ষণের আওতায় এপ্রিল-২০২৬ সেশনে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে।

৪০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ২০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ওয়াইফাই প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো ফ্রিল্যান্সিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।