চীনের বিজ্ঞানীরা একটি প্রোগ্রামযোগ্য পরীক্ষামূলক কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সিস্টেম তৈরি করেছেন। ‘চিউচাং ৪.০’ নামের এই কম্পিউটার অপটিক্যাল কোয়ান্টাম তথ্যপ্রযুক্তিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে। বুধবার প্রকাশিত গবেষণা সাময়িকী নেচার-এ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গবেষণার বিবরণ
গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দল। গবেষণায় বলা হয়েছে, নতুন পরীক্ষামূলক সংস্করণটি ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা ‘গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং’ সমস্যার সমাধান করেছেন। বর্তমান সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের চেয়ে এটি ১০-এর ঘাত ৫৪ গুণ (১০-এর পর ৫৪টি শূন্য বসালে যত হবে তত গুণ বেশি) গতিতে কাজ করতে সক্ষম।
গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং
গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং-এ একটি কোয়ান্টাম অপটিক্যাল সিস্টেমে অনেকগুলো ফোটন পাঠানো হয়। ফোটনগুলো বিভিন্ন পথ দিয়ে চলতে চলতে একে অপরের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। শেষে ডিটেক্টরে যে ফলাফল পাওয়া যায়, সেই ফলাফলের সম্ভাবনার বণ্টন বিশ্লেষণ করাই হলো গাউসিয়ান বোসন স্যাম্পলিং।
চিউচাং ৪.০-এর সক্ষমতা
গবেষকদের মতে, চিউচাং ৪.০ সিস্টেমে সর্বোচ্চ ৩,০৫০টি ফোটনের কোয়ান্টাম অবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। আগের সংস্করণে ছিল ২৫৫টি ফোটন। প্রচলিত কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের প্রধান প্রযুক্তিগত পথগুলোর মধ্যে রয়েছে সুপারকন্ডাক্টিং, আয়ন ট্র্যাপ, ফোটোনিক এবং নিউট্রাল অ্যাটম সিস্টেম। চিউচাং সিরিজের প্রোটোটাইপগুলো ফোটন ব্যবহার করে কোয়ান্টাম বিট এনকোড করে এবং ফোটনের নিয়ন্ত্রণ ও পরিমাপের মাধ্যমে কোয়ান্টাম গণনা করে।
উন্নয়নের ধারা
২০২০ সালে প্রথম সফলভাবে তৈরি হওয়ার পর থেকে ‘চিউচাং’ সিরিজের যন্ত্রগুলোর ধারাবাহিকভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ১,০২৪টি উচ্চ দক্ষতার স্কুইজড-স্টেট অপটিক্যাল ফিল্ডকে ৮,১৭৬-মোডের স্থান-কাল হাইব্রিড কোডেড সার্কিটে একত্রিত করা হয়েছে, যার ফলে ৩,০৫০টি ফোটনের কোয়ান্টাম অবস্থা নিয়ন্ত্রণ ও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গতি ও ভবিষ্যৎ
গবেষকরা জানান, চিউচাং ৪.০ দিয়ে তৈরি সবচেয়ে জটিল ডেটা নমুনা তৈরি করতে সময় লাগে মাত্র ২৫ মাইক্রোসেকেন্ড। একই ফলাফল গণনা করতে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটারের ১০-এর ঘাত ৪২ বছর তথা ১০ এর পর ৪২টি শূন্য বসালে যত হয় তত বছর লাগবে। গবেষকদের মতে, ‘চিউচাং ৪.০’-এর সাফল্য দেখিয়েছে, ভবিষ্যতে ট্রিলিয়ন-কিউবিট মোডের ত্রিমাত্রিক ক্লাস্টার স্টেট নির্মাণ এবং ত্রুটিসহিষ্ণু অপটিক্যাল কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।



