ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকার লেক রোডে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমৃদ্ধ ক্যামেরা চালু করেছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ অফিস প্রাঙ্গণে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং এআই ক্যামেরা কন্ট্রোলরুম পরিদর্শন করেন।
এআই ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা
এখন থেকে লেক রোডে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন যেমন গতিসীমা অতিক্রম, বিপজ্জনক লেন পরিবর্তন, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো বা অবৈধ পার্কিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত হবে। সরাসরি কমান্ড সেন্টারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘ই-প্রসিকিউশন’ বা মামলা রুজু করা হবে, যা গাড়ির মালিক বা চালক স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে পারবেন। ফলে ট্রাফিক পুলিশকে সড়কে সশরীরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি থামানোর প্রয়োজন হবে না।
ডিএমপি কমিশনারের বক্তব্য
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপি সনাতন পদ্ধতির পরিবর্তে এখন ডেটা-ড্রাইভেন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে।”
যানজট কমাতে ডাইভারসন ও এআই ক্যামেরা
মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারসেকশনে কৌশলগত ডাইভারসন ব্যবস্থা চালু এবং অপ্রয়োজনীয় ক্রসিং বন্ধ করার ফলে যানজট অনেকটাই কমে এসেছে। চালকদের লেনে থাকা এবং সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা বাড়াতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নয়ন এনেছে।
পর্যায়ক্রমে পুরো ঢাকায় সম্প্রসারণ
ডিএমপি জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে ঢাকার অন্যান্য এলাকাকেও এই স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরা নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। ঢাকাকে একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে নগরবাসী, পরিবহন মালিক ও চালকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে ডিএমপি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-দক্ষিণ) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক অ্যাডমিন, প্লানিং অ্যান্ড রিসার্চ) আসফিকুজ্জামান আকতার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস্) সুফিয়ান আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।



