দুই মাসের বেশি সময় ধরে ইন্টারনেটের ওপর কঠোর কড়াকড়ি চলছে ইরানে। তবে সরকারের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে গোপনে দেশটিতে সীমিত পরিসরে ব্যবহার করা যাচ্ছে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা। এর ফলে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও আকারে ছোট বিশেষ একটি যন্ত্রের মাধ্যমে অনেক ইরানি ইন্টারনেটের নাগাল পাচ্ছেন।
বিদেশে বসবাসকারী ইরানিদের ভূমিকা
সরকারের নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে ইরানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছেন বিদেশে বসবাসকারী ইরানি নাগরিক সাহান্দ (ছদ্মনাম)। সাহান্দ জানিয়েছেন, একজন মানুষও যদি ইন্টারনেট পায়, তবেই আমি সফল। এটি ঝুঁকি নেওয়ার মতো একটি কাজ। ইরানে দুই মাস ধরে ডিজিটাল ব্ল্যাকআউট চলছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলার পর এটি শুরু হয়।
গত জানুয়ারি থেকে অন্তত এক ডজন টার্মিনাল ইরান সীমান্তে পাঠিয়েছেন সাহান্দ। এখন আরও নতুন পথ খোঁজা হচ্ছে। সাহান্দ জানান, একটি টার্মিনালে অনেকে মিলে যুক্ত হতে পারেন।
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনি ঝুঁকি
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্ট নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) তথ্যমতে, নিরাপত্তার অজুহাতে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে। তারা দাবি করে, এতে নজরদারি ও সাইবার হামলা ঠেকানো যাবে। ফলে ইরানিরা স্বাধীন খবরের উৎস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পুরোপুরি সরকারনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা উইটনেসের মতে, ইরানে অন্তত ৫০ হাজার স্টারলিংক ব্যবহারকারী আছেন। তবে ইরানে স্টারলিংক ব্যবহার করা এখন দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। বড় পরিসরে বিতরণ করলে ১০ বছর জেল হতে পারে। গত মাসে চারজন এই কারণে গ্রেপ্তার হয়েছেন।
বিক্রি ও ব্যবহারের চ্যানেল
টেলিগ্রামের একটি চ্যানেলের মাধ্যমেও ইরানে এই যন্ত্র বিক্রি করা হচ্ছে। সেই চ্যানেলের একজন স্বেচ্ছাসেবক বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত আড়াই বছরে প্রায় পাঁচ হাজার যন্ত্র বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে ইরানে একধরনের স্তরবিন্যাস করা ইন্টারনেট চলে। ব্যাংকিং বা জরুরি সেবার জন্য নিজস্ব নেটওয়ার্ক চালু আছে। তবে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো সেবাগুলো সেখানে বন্ধ রয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
ডিজিটাল অধিকার সংস্থা অ্যাকসেস নাউয়ের মতে, ইন্টারনেট বন্ধ করা মানবাধিকার লঙ্ঘন। ২০২৫ সালে ৫২টি দেশে ৩১৩ বার ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, এটি এখন একটি খারাপ প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি



