মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের মতোই এবার ফুটবলকেও মাঠে নামানোর আগে চার্জ দিতে হবে। ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ অনেক দিক থেকেই ব্যতিক্রমী হতে চলেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ—মেক্সিকো, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র—যৌথভাবে এই বিশ্বকাপ আয়োজন করবে। এছাড়া এই আসরে সর্বোচ্চ ৪৮টি দেশ অংশ নেবে, যা আগের কোনো বিশ্বকাপে দেখা যায়নি। তবে সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে মাঠের ফুটবলেই। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবারের বিশ্বকাপের বল হয়ে উঠছে আরও নিখুঁত ও স্মার্ট।
অ্যাডিডাসের ট্রিওন্ডা বল
১৯৭০ সাল থেকে বিশ্বকাপের বল তৈরি করে আসছে ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস। ২০২৬ সালের জন্য তারা উন্মোচন করেছে ট্রিওন্ডা নামের বলটি। এতে ব্যবহার করা হয়েছে কানেক্টেড বল টেকনোলজি, যা মাঠে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। খালি চোখে এটি সাধারণ ফুটবলের মতো মনে হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে উন্নত প্রযুক্তি।
বলের ভেতরের প্রযুক্তি
ট্রিওন্ডা বলের ভেতরে একটি ৫০০ হার্জের ইনর্শিয়াল মেজারমেন্ট ইউনিট মোশন সেন্সর চিপ বসানো আছে। একটি ঝুলন্ত সিস্টেমের মাধ্যমে চিপটিকে বলের ভেতরে আটকে রাখা হয়। কাতার বিশ্বকাপের বলেও এই চিপ ছিল, তবে তার থেকে বড় পার্থক্য হলো—২০২২ সালের বিশ্বকাপে সেন্সরটি বলের ঠিক মাঝখানে ছিল, কিন্তু এবারের বলের সেন্সরটি বসানো হয়েছে বলের এক পাশে।
খেলা চলাকালে কোনো খেলোয়াড় যখনই বলে কিক করেন বা বল স্পর্শ করেন, এই সেন্সরটি সঙ্গে সঙ্গে সেই ডেটা সংগ্রহ করে মাঠের বাইরে থাকা ভিএআর সিস্টেমে পাঠিয়ে দেয়। ফলে অফসাইড, হ্যান্ডবল বা অন্য যেকোনো জটিল মুহূর্তে রেফারিরা দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
চার্জিং প্রক্রিয়া
সেন্সর চালানোর জন্য শক্তির প্রয়োজন, যা জোগান দেয় বলের ভেতরে থাকা রিচার্জেবল ব্যাটারি। অ্যাডিডাস জানিয়েছে, ব্যাটারি ছাড়া এই সেন্সর কোনোভাবেই কাজ করবে না। তাই ম্যাচের আগে নির্দিষ্ট ভেন্যুতে একটি বিশেষ স্ট্যান্ডের ওপর রেখে প্রতিটি বল চার্জ করা হয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কাইনেক্সন জানিয়েছে, কাস্টমাইজড চার্জিং স্টেশনের মাধ্যমে বলগুলোকে তারহীন পদ্ধতিতে চার্জ করা হয়। একবার পুরোপুরি চার্জ হতে সময় লাগে প্রায় ৯০ মিনিট। আর এই ফুল চার্জ দিয়ে টানা ৬ ঘণ্টা মাঠে খেলা যায়।
ব্যাটারি ব্যাকআপ ও স্লিপ মোড
বলটি যখন মাঠের বাইরে থাকে, তখন এটি নিজে থেকেই স্লিপ মোডে চলে যায়। ফলে এর ব্যাটারি ব্যাকআপ কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তাই চার্জ শেষ হওয়া নিয়েও নেই কোনো বাড়তি ঝামেলা। অ্যাডিডাস নিশ্চিত করেছে, ইউরো কাপের মতো বড় আসরগুলোতে কখনোই চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে বল পাল্টাতে হয়নি।
নকশায় তিন দেশের ঐতিহ্য
প্রযুক্তির পাশাপাশি বলটির নকশাতেও আয়োজক তিন দেশের ঐতিহ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বলটির গায়ে লাল, সবুজ ও নীল রঙের চমৎকার ছোঁয়া রয়েছে। এর ওপর আইকন হিসেবে আঁকা আছে কানাডার ম্যাপল পাতা, মেক্সিকোর ঈগল এবং যুক্তরাষ্ট্রের তারা।
সূত্র: ইয়াহু স্পোর্টস



