আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে যাত্রী হয়রানি ও টিকিট সংগ্রহ সংক্রান্ত প্রতারণা এড়াতে বাংলাদেশ রেলওয়ের নির্ধারিত অ্যাপ ‘রেল সেবা’ ব্যবহার করে টিকিট কেনার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতারক চক্রের ফাঁদ
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেনের টিকিট বিক্রির বিষয়ে নিশ্চয়তা প্রদান করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে তাদের টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার কোনো সামর্থ্য নেই। এরা মূলত প্রতারক। এদের ফাঁদে পা দিয়ে অনেক যাত্রী হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হন। অনেক ক্ষেত্রে তারা বিকাশ, নগদ বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়, এমনকি পূর্বে ব্যবহৃত সিমকার্ড বন্ধ করে দেয়।
টিকিট কেনার নিয়ম
বাংলাদেশ রেলওয়ের রেজিস্টার্ড একটি আইডি থেকে নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে একক যাত্রায় সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কেনা যায়। এক্ষেত্রে আইডিধারী ব্যক্তির সহযাত্রীদের নামও সিস্টেমে ইনপুট দেওয়া বাধ্যতামূলক। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদযাত্রা উপলক্ষে ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি করা হচ্ছে। ‘রেল সেবা’ ছাড়া আর কোথাও ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে না। কেউ নির্ধারিত অ্যাপ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা স্থান থেকে টিকিট কিনলে তিনি প্রতারিত হবেন।
প্রতারণার শিকার হলে করণীয়
প্রতারকচক্র কোনো মাধ্যমে টিকিট সংগ্রহ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে বা অন্য কারও আইডি ব্যবহার করে কেনা টিকিট বিক্রির চেষ্টা করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে সোপর্দ করার জন্য অথবা বাংলাদেশ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও রেলওয়ে পুলিশের সহায়তা নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের হটলাইন ১৩১ নম্বরে ডায়াল করে এ ব্যাপারে অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ভ্রমণের শর্ত
উল্লেখ্য, বুধবার থেকে এবারের ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, যে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে টিকিট কেনা হবে, ওই ব্যক্তির সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন ও ফটো সম্বলিত আইডি কার্ডসহ তাকে ভ্রমণ করতে হবে। আইডিধারী ব্যক্তি ও টিকিটে উল্লিখিত সহযাত্রী ছাড়া অন্য কেউ ভ্রমণ করলে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।



