মেটার স্মার্ট চশমায় চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে, গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ
মেটার স্মার্ট চশমায় চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আসছে

মেটার স্মার্ট চশমায় চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত হতে পারে

মেটা তাদের স্মার্ট চশমায় চেহারা শনাক্তকরণ বা ফেশিয়াল রিকগনিশন প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে চশমাটি সামনে থাকা ব্যক্তিদের নাম ও পরিচয় অনলাইন তথ্যভান্ডার থেকে শনাক্ত করে ব্যবহারকারীদের জানাতে সক্ষম হবে। ফলে ভিড়ের মধ্যেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে। মেটা ইতিমধ্যে 'নেম ট্যাগ' নামের একটি নতুন সুবিধা চালুর জন্য কাজ শুরু করেছে, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত হতে পারে।

গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ

চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক হলেও, এটি সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রযুক্তি ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা–সংক্রান্ত ঝুঁকি বাড়াতে পারে। মেটা গত বছর থেকেই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছে, কীভাবে নিরাপদভাবে প্রযুক্তিটি উন্মুক্ত করা যায় তা নির্ধারণের জন্য। ফলে, স্মার্ট চশমায় মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সহকারীর মাধ্যমে তথ্য জানাতে সক্ষম এ প্রযুক্তি যুক্তের বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

পূর্বের উদ্যোগ ও বর্তমান পরিকল্পনা

মেটার অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, শুরুতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য আয়োজিত একটি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে 'নেম ট্যাগ' সুবিধা পরীক্ষামূলকভাবে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল, যা পরে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু করার কথা ভাবা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সে উদ্যোগ সফল হয়নি। এর আগে ২০২১ সালে, মেটা রেব্যান স্মার্ট চশমার প্রথম সংস্করণে চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু প্রযুক্তিগত জটিলতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসে।

বর্তমানে, মেটার স্মার্ট চশমা দিয়ে ব্যবহারকারীরা ছবি তুলতে, গান শুনতে এবং ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা আদান–প্রদান করতে পারেন। সম্প্রতি, বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঘনিষ্ঠতা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে, মেটা আবারও তাদের স্মার্ট চশমায় চেহারা শনাক্তকরণ প্রযুক্তি যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি প্রযুক্তি শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে, তবে গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইনি ও নৈতিক প্রশ্নগুলো সমাধান করা জরুরি হয়ে পড়েছে।