ইভ্যালির সিইও ও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা, ৩১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (৩০ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও আর্থিক অনিয়ম
৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কাফরুল থানায় রোববার (২৯ মার্চ) মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। সিআইডির তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ইভ্যালি গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্যের অর্ডার নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। একইসঙ্গে, বিভিন্ন মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে যে, আত্মসাৎ করা এই বিপুল অর্থ আসামিরা বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, সম্পদ অর্জন, বিদেশ ভ্রমণসহ নানা ভোগ-বিলাসে ব্যয় করেছেন। গ্রাহকদের বারবার নতুন ডেলিভারির তারিখ দিয়ে আশ্বস্ত করা হলেও শেষ পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ করা হয়নি, যা স্পষ্টভাবে প্রতারণার শামিল বলে উল্লেখ করেছে সিআইডি।
প্রতারণার ব্যাপকতা ও তদন্তের অগ্রগতি
সিআইডি আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের মাধ্যমে হাজার হাজার গ্রাহক ও মার্চেন্ট প্রতারিত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও গভীর তদন্ত চালিয়ে আত্মসাৎ করা অর্থের হদিস ও সহযোগীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে সংস্থাটি।
এরআগে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুজন জামিনে মুক্ত হন। এ বছরের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাদের আবারও গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় মোহাম্মদ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে দুই মামলায় সাজা পরোয়ানা থাকায়।
এই মামলাটি অনলাইন বাণিজ্যে ক্রমবর্ধমান প্রতারণা ও আর্থিক অনিয়মের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা গ্রাহক সুরক্ষা ও ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



