ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং মামলা, ৩১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে। এই মামলাটি কাফরুল থানায় গত রোববার দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ৩১০ কোটি ৯৯ লাখ ১৩ হাজার ৪০৭ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ
সিআইডি জানিয়েছে, ইভ্যালির বিরুদ্ধে অনলাইনে পণ্য বিক্রির নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্যের অর্ডার নিয়ে নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ।
এছাড়াও, বিভিন্ন মার্চেন্টের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে মূল্য পরিশোধ না করার অভিযোগও উঠেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, আত্মসাৎ করা অর্থ আসামিরা বিলাসবহুল গাড়ি কেনা, সম্পদ অর্জন, বিদেশ ভ্রমণসহ ভোগ-বিলাসে ব্যয় করেছেন।
গ্রাহকদের আশ্বাস দিয়েও পণ্য সরবরাহ না করা
সিআইডি আরও উল্লেখ করেছে, গ্রাহকদের বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পণ্য সরবরাহ করা হয়নি। এসব বিষয় নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে।
পূর্বের গ্রেপ্তার ও কারাদণ্ডের ঘটনা
২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে রাসেল ও শামীমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, পরে তারা জামিনে মুক্ত হন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে তাদের আবার গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
চেক প্রত্যাখ্যানের মামলায় মোহাম্মদ রাসেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে দুই মামলায় সাজা পরোয়ানা থাকায়। এছাড়া, প্রতারণার অভিযোগে করা একটি মামলায় মো. রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে দুই বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
তদন্তের অগ্রগতি
সিআইডি এই মামলার তদন্ত জোরদার করেছে এবং আরও তথ্য সংগ্রহ করছে। ইভ্যালির বিরুদ্ধে মোট ৩৯১টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে বলে জানা গেছে।



