ফ্লাইট এক্সপার্টের ২০ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ, আদালতের নির্দেশে ৪ কোটি টাকা আটক
গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে টিকিট না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় উড়োজাহাজের অনলাইন টিকিট বুকিংয়ে দেশের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইট এক্সপার্ট–এর ২০টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে মোট ৪ কোটি ১০ লাখ ৯৪৬ টাকা জমা রয়েছে বলে আদালতের নির্দেশে নিশ্চিত করা হয়েছে।
আদালতের আদেশ ও সিআইডির ভূমিকা
ফ্লাইট এক্সপার্টের চেয়ারম্যান সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম–এর বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলমান থাকায় সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ আজ রোববার এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতে বেঞ্চ সহকারী মো রিয়াজ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সিআইডির পক্ষে উপপুলিশ পরিদর্শক মো. জহির রায়হান ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট বিক্রয় ও বুকিং গ্রহণ করলেও গ্রাহকদের টিকিট সরবরাহ করেনি এবং অর্থ আত্মসাৎ করেছে। গত বছরের ২ আগস্ট চেয়ারম্যান অফিস বন্ধ করে কানাডায় পালিয়ে যান, যা অনুসন্ধানকে জটিল করে তুলেছে।
অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিং অভিযোগ
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হিসাবগুলো পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বিভিন্ন গ্রাহক ও সাব এজেন্সি বিভিন্ন সময়ে এসব হিসাবে টাকা জমা দিয়েছেন। এটা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে এসব হিসাব অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন বলে আদালতকে জানানো হয়।
এই ঘটনা অনলাইন বুকিং প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। গ্রাহকরা এখনও তাদের টিকিট না পাওয়ায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উপর জোর দিচ্ছে।
ফ্লাইট এক্সপার্টের এই কেলেঙ্কারি দেশের ই-কমার্স ও অনলাইন সেবা খাতের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সহায়ক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
