অনলাইন টিকিট বুকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের ২০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ
ফ্লাইট এক্সপার্টের ২০ ব্যাংক হিসাব জব্দ, ৪ কোটি টাকা ত্মসাত

অনলাইন টিকিট বুকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের ২০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

অনলাইনে বিমানের টিকিট বিক্রি ও বুকিংয়ের টাকা ত্মসাতের অভিযোগে অনলাইন টিকিট বুকিং প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্টের নামে থাকা ২০টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৫ মার্চ) সিআইডি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিআইডির আবেদন ও অভিযোগের বিবরণ

সিআইডির পক্ষে উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. জহির রায়হান এ আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনলাইন টিকিট বুকিং প্রতিষ্ঠান এফইবিডি লি. (ফ্লাইট এক্সপার্ট) বিভিন্ন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনলাইনের মাধ্যমে বিমানের টিকিট বিক্রি ও বুকিংয়ের অর্থ এই ব্যাংক হিসাবগুলোতে অগ্রিম গ্রহণ করে। পরে গ্রাহকদের টিকিট না দিয়ে সেই অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে।

গত বছরের ২ আগস্ট এফইবিডি লিমিটেডের (ফ্লাইট এক্সপার্ট) চেয়ারম্যান সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম তার বর্তমান অফিস বন্ধ করে কানাডা পালিয়ে যান। হিসাবগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভিন্ন গ্রাহক এবং সাব এজেন্সি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অংকের টাকা জমা করেছেন। এটি প্রতারণা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন মতে সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও অর্থের স্থিতি

সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর বিধান মোতাবেক হিসাবগুলো ফ্রিজ করা একান্ত প্রয়োজন বলে আদালত উল্লেখ করেন। না হলে হিসাবগুলোতে স্থিতি অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর বা বেহাত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সিআইডির তথ্য অনুসারে এসব হিসাবে বর্তমান স্থিতি ৪ কোটি ১০ লাখ ৯৪৬.৫২ টাকা।

এই ঘটনা অনলাইন বাণিজ্যে প্রতারণা ও আর্থিক অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।