ইরানের হুমকিতে লোহিত সাগরের ইন্টারনেট তার কাটার আশঙ্কা, বৈশ্বিক যোগাযোগে বিপর্যয়ের শঙ্কা
ইরানের হুমকিতে লোহিত সাগরের ইন্টারনেট তার কাটার আশঙ্কা

ইরানের হুমকিতে লোহিত সাগরের ইন্টারনেট তার কাটার আশঙ্কা, বৈশ্বিক যোগাযোগে বিপর্যয়ের শঙ্কা

ইরান লোহিত সাগরের নিচ দিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারনেট তার কেটে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে বলে খবর বেরিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সেনা মোতায়েন বহাল রাখলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে ইরানের কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা বড় গোয়েন্দা সংস্থা এখনো সরাসরি এই হুমকি নিশ্চিত করেনি।

বৈশ্বিক ট্র্যাফিকের ১৭ শতাংশ হুমকির মুখে

লেবানিজ-অস্ট্রেলিয়ান উদ্যোক্তা মারিও নাওফাল এক্স প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, 'ইরান এখন হুমকি দিচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন সেনা রাখলে সমুদ্রের তার কেটে দেবে।' তিনি উল্লেখ করেছেন যে এই তারগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের প্রায় ১৭ শতাংশ বহন করে। এর মধ্যে আমাজন, মাইক্রোসফট ও গুগল সমর্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেন্দ্রগুলোর সংযোগও রয়েছে।

নাওফাল সতর্ক করে দিয়েছেন, 'তার কেটে গেলে ঘণ্টা নয়, মাসের পর মাস বিভ্রাট চলবে।' তিনি আরও জানিয়েছেন যে মেটার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগর থেকে সরে গেছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও তুলে ধরে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আঞ্চলিক ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের ৩০ শতাংশ ঝুঁকিতে

লোহিত সাগরের নিচে ঘন জালের মতো বিছানো ফাইবার অপটিক তারগুলো আঞ্চলিক ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশ বহন করে। এই তারগুলো এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যকে সংযুক্ত করে, যা আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই তারের উপর নির্ভরশীল কার্যক্রমগুলোর মধ্যে রয়েছে:

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • আর্থিক লেনদেন ও ব্যাংকিং সেবা
  • ক্লাউড সেবা ও ডেটা স্টোরেজ
  • ভিডিও কল ও ইমেইল যোগাযোগ
  • কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার গবেষণা ও কার্যক্রম

স্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জাহাজ আটকে পড়েছে

তার স্থাপনার দায়িত্বে থাকা ফরাসি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান আলকাটেল সাবমেরিন নেটওয়ার্কস তাদের গ্রাহকদের 'ফোর্স ম্যাজিউর' নোটিশ পাঠিয়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির জাহাজ 'ইল দ্য বাৎজ' সৌদি আরবের দাম্মামের উপকূলে আটকে আছে।

এদিকে, মেটা এই মাসের শুরুতে সমুদ্রের তারে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, যা নিরাপত্তা উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। এই উন্নয়নগুলো বৈশ্বিক ইন্টারনেট অবকাঠামোর জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি

এই হুমকি ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এসেছে। মার্কিন সেনা মোতায়েন নিয়ে বিতর্ক এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই তার কাটা হলে:

  1. বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট সেবায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটবে
  2. অর্থনৈতিক লেনদেন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হবে
  3. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হবে
  4. আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হবে

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া। এই প্রতিবেদনে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি এবং বৈশ্বিক ইন্টারনেট অবকাঠামোর উপর এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।