চট্টগ্রামে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ মামলা, ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ
চট্টগ্রামে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার মামলা

চট্টগ্রামে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ মামলা দায়ের

চট্টগ্রাম আদালতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রিদুয়ান সিদ্দিকী।

মামলার বিস্তারিত ও অভিযোগ

বাদীর আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী জানান, আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ২৬ (১) ও ২৬ (২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা হলেন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও আজকের পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সবুর শুভ, চ্যানেল আইয়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, যুগান্তরের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রতন কান্তি দেবাশীষ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এলে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর এবং আন্দোলনে নারী আন্দোলনকারীদের শারীরিক লাঞ্ছনা ও নিপীড়নের ফৌজদারি অভিযোগের বিষয় তুলে ধরেন বাদী। বিশেষ করে দৈনিক আমার দেশ, কর্ণফুলীসহ পাঁচটি গণমাধ্যমে হামলায় সাংবাদিক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্মারকলিপিও দেওয়া হয় মন্ত্রীকে। ওই দিনের পর থেকে অভিযুক্ত সাতজন তাঁদের ফেসবুকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেন। এগুলো বিভিন্নজন শেয়ার ও মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া ও পাল্টা অভিযোগ

মামলার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার বলেন, "গণমাধ্যমে হামলা, ভাঙচুরে সাংবাদিকেরা কেউ জড়িত নন। নারী আন্দোলনকারীদেরও লাঞ্ছনা, নিপীড়নের বিষয়েও সাংবাদিকেরা অবগত নন। উল্টো ৪ মার্চ চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে এক বৈঠক চলাকালে সংঘবদ্ধভাবে মব সৃষ্টি করে পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলার নেতৃত্ব দেন সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী রিদুয়ান সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোগীরা। সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়েও তাঁর নেতৃত্বে এই হামলা সংঘটিত হয়।"

সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক আরও বলেন, ঘটনার প্রতিবাদ করায় রিদুয়ান সিদ্দিকী ও তাঁর সহযোগীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অপপ্রচার চালাচ্ছেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে শারীরিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন, যা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় গতকাল বুধবার সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী রিদুয়ান সিদ্দিকী মুঠোফোনে বলেন, "আমি কাউকে হুমকি দিইনি। উল্টো ওই সাংবাদিক আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নেতিবাচক পোস্ট ও মন্তব্য করছেন।"

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সংগঠনের প্রতিবাদ

গত ১৫ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক পরিচয়দানকারী রিদুয়ান সিদ্দিকীসহ কয়েকজন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে গিয়ে ছাত্রদলে যোগ দেন। এ সময় চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর (ফলাফল স্থগিত) তাঁকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন।

এদিকে সাত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিকদের তিনটি সংগঠন। তারা অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার এবং কথিত সমন্বয়ক রিদুয়ান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি শহীদ উল আলম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সালাহউদ্দিন মো. রেজা ও সাধারণ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী।

যুক্ত বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, "গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের আমলেও আগের মতোই বাক্‌স্বাধীনতা, ভিন্নমত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চক্রান্ত করছে সুযোগসন্ধানী একটি চক্র। সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।"