শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্যের কড়া পদক্ষেপ: এআই চ্যাটবটে বিধিনিষেধ
যুক্তরাজ্যে শিশুদের অনলাইন সুরক্ষায় এআই চ্যাটবটে কড়া বিধিনিষেধ

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্যের কড়া পদক্ষেপ: এআই চ্যাটবটে বিধিনিষেধ

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবটগুলোর ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বা এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি অবৈধ কনটেন্ট রুখতে সরকার বিশেষ পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে আইন শক্তিশালীকরণ

প্রধানমন্ত্রী স্টারমার স্পষ্ট করে বলেছেন যে প্রযুক্তির দ্রুত গতির সাথে তাল মিলিয়ে আইনকেও শক্তিশালী হতে হবে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার আগামী মার্চ থেকে একটি জনমত যাচাই বা কনসালটেশন প্রক্রিয়া শুরু করবে, যেখানে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

নতুন নীতিমালার বিস্তারিত

নতুন এই নীতিমালার আওতায় এআই চ্যাটবট সরবরাহকারীদের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে কারও সম্মতি ছাড়া এআই দিয়ে ঘনিষ্ঠ বা আপত্তিকর ছবি তৈরি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স প্ল্যাটফর্মের 'গ্রোক' চ্যাটবটের মাধ্যমে তৈরি বিতর্কিত কন্টেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আইনি ক্ষমতা ও পার্লামেন্টে বিবেচনা

প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে প্রতিবার নতুন প্রাথমিক আইনের অপেক্ষায় না থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকার বিশেষ আইনি ক্ষমতা দাবি করবে। এই নিয়মগুলো বর্তমানে পার্লামেন্টে বিবেচনাধীন অপরাধ ও শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

অস্ট্রেলিয়ার আদলে যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ

অস্ট্রেলিয়ার আদলে যুক্তরাজ্যও এই কঠোর পথে হাঁটছে। অস্ট্রেলিয়া ইতিমধ্যেই ১৬ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, যার ফলে কয়েক মিলিয়ন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের এই পরিকল্পনায় ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির পাশাপাশি বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টিও সমর্থন জানিয়েছে।

বিধিনিষেধের সম্ভাব্য জটিলতা

তবে এ ধরনের বিধিনিষেধের ফলে প্রাপ্তবয়স্কদের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ইন্টারনেটে অবাধ তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ইতিমধ্যে কিছু ওয়েবসাইট যুক্তরাজ্যে তাদের সেবা সীমিত করেছে। এছাড়া পর্নোগ্রাফিক সাইট এবং ভিপিএন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বয়স যাচাইয়ের কঠোর নিয়ম চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের।

সূত্র: আল জাজিরা।