লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত বিশেষ প্রযুক্তির ‘ফার্স্ট পারসন ভিউ’ বা এফপিভি ড্রোন মোকাবিলা করতে গিয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ব্যাপক প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ফাইবার অপটিক প্রযুক্তির নতুন কৌশল
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজবুল্লাহ বর্তমানে ড্রোনগুলোর সঙ্গে যুক্ত ফাইবার অপটিক সুতো বা তার ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোন চালকরা ম্যানুয়ালি বা হাতে কলমে ড্রোনগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁতভাবে পরিচালনা করতে পারছেন, যা ইসরায়েলের শক্তিশালী ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সংকেত নিরোধক ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হচ্ছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টের তথ্যমতে, হিজবুল্লাহ সম্প্রতি একটি ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে যে একটি এফপিভি ড্রোন গত রোববার উত্তর সীমান্তে অবস্থিত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’-এর একটি ব্যাটারিতে সরাসরি আঘাত হানছে। ফাইবার অপটিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ সংকেত মাঝপথে বিচ্ছিন্ন করা ইসরায়েলের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনীর প্রতিক্রিয়া
গত সপ্তাহে দক্ষিণ লেবানন পরিদর্শনের সময় ইসরায়েলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই নতুন ধরনের ড্রোন শনাক্ত এবং তা প্রতিহত করার জন্য বেশ কিছু পরীক্ষামূলক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে সংবাদমাধ্যমটি উল্লেখ করেছে, হিজবুল্লাহর এই প্রযুক্তিগত উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এখনো ‘রিয়েল টাইম’ বা তাৎক্ষণিকভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও জ্যামিং ব্যবস্থার লড়াই ক্রমাগত বিবর্তিত হচ্ছে। হিজবুল্লাহর এই ফাইবার অপটিক ড্রোন মূলত তারের মাধ্যমে সংকেত আদান-প্রদান করে বলে এটি কোনো রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির ওপর নির্ভর করে না, যা একে ইলেকট্রনিক জ্যামিংয়ের বিরুদ্ধে অভেদ্য করে তোলে।
কৌশলগত পরিবর্তন ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
হিজবুল্লাহর ড্রোন ইউনিটের এই কৌশলগত পরিবর্তন ইসরায়েলি সীমান্ত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। বিশেষ করে গত কয়েক মাসে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর ড্রোনের অনুপ্রবেশ ও সফল আক্রমণের হার বেড়ে যাওয়ায় আইডিএফ বা ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে, ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানেও এই ধরনের এফপিভি ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার দেখা গিয়েছিল, যা এখন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও একটি নিয়মিত অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে ইউক্রেনের খোরকিভ অঞ্চলে সেনাদের ড্রোন তৈরির চিত্রও বৈশ্বিক যুদ্ধকৌশলে এই প্রযুক্তির গুরুত্ব প্রমাণ করে।
ভবিষ্যৎ পাল্টা ব্যবস্থা
ইসরায়েল এখন এই প্রযুক্তির ড্রোন ভূপাতিত করার জন্য নতুন কোনো পাল্টা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর এই প্রযুক্তিগত কৌশল ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য একটি বড় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই



