সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ছবির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি দিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শাকিল আহমেদ (২৬) নামের এক কলেজছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে ওই কলেজছাত্রকে আটক করে দেবীগঞ্জ থানা-পুলিশ।
বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ৫ মিনিটে চিলাহাটি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে সম্রাট বাদী হয়ে শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে দেবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ডিজিটাল ডিভাইসের সাহায্যে ইচ্ছাকৃতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে এডিট করা স্থিরচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার ও প্রকাশ করে সম্মানের ক্ষতি করা এবং সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে শাকিলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার শাকিল আহমেদ চিলাহাটি ইউনিয়নের নগর ভাউলাগঞ্জ এলাকার বুলবুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকার তেজগাঁও কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের (স্নাতক-সম্মান) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার শাকিল আহমেদ তাঁর ইংরেজি অক্ষরে ‘ছোট বাবু আহমেদ’ নামের ফেসবুক আইডিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে নিজের ছবির পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমানের ছবি পোস্ট করেন। ওই পোস্টে ছবির ওপর শাকিল আপত্তিকর কথা লেখেন। পরে ওই পোস্টের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটি নজরে আসার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে দেবীগঞ্জ থানা–পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে ভাউলাগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে শাকিল আহমেদকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মেয়ের ছবি দিয়ে ওই তরুণ আপত্তিকর পোস্ট করেছিলেন। পরে প্রশাসন তাঁকে নিয়ে গেছে। তিনি ঢাকায় পড়াশোনা করতেন, কোনো রাজনীতি করেন কি না আমাদের জানা নেই। তবে এলাকায় এর আগে আওয়ামী লীগের লোকজনের সঙ্গে মিছিলে যেতেন।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা দেখা দেয়। অভিযুক্ত তরুণের ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনায় বিতর্কিত পোস্টের সত্যতা পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দায়ের হয়েছে।



