হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন নৌযানের সাহায্যে মার্কিন সেনা উদ্ধার
হরমুজ প্রণালিতে ড্রোন নৌযানে মার্কিন সেনা উদ্ধার

হরমুজ প্রণালির কাছে পানিতে পড়ে যাওয়া মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে ব্যবহার করা হয়েছে একটি চালকবিহীন নৌযান। মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্রে উদ্ধার অভিযানে এটি হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পরিচিত বাস্তব ব্যবহার।

উদ্ধার অভিযানের বিস্তারিত

মার্কিন সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে, উদ্ধার অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর করসেয়ার নামের একটি স্বয়ংক্রিয় নৌযান, যা সি ড্রোন নামেও পরিচিত। ওমানের কাছে আঞ্চলিক জলসীমায় টহল দেওয়ার সময় একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হলে এর দুই ক্রুকে উদ্ধার করতে হয়। এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালায়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, দুই ক্রু সদস্য প্রায় দুই ঘণ্টা পানিতে অবস্থান করার পর মার্কিন নৌবাহিনীর একটি স্বয়ংক্রিয় নৌযান তাদের খুঁজে বের করে উদ্ধার করে। এ কাজে ব্যবহার করা হয় টেক্সাসভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সারোনিক টেকনোলজিসের তৈরি ২৪ ফুট দীর্ঘ করসেয়ার নৌযান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চালকবিহীন নৌযানের প্রযুক্তি

সি ড্রোন হলো এমন একটি চালকবিহীন নৌযান, যা পানির ওপর বা নিচে মানুষের উপস্থিতি ছাড়াই পরিচালিত হতে পারে। এগুলো দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় অথবা সেন্সর, ক্যামেরা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হয়। বিপজ্জনক পরিবেশে সেনাসদস্যদের ঝুঁকি কমানো এবং সামরিক সক্ষমতা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এসব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টাস্ক ফোর্স ৫৯ ও করসেয়ার

উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত করসেয়ার নৌযানটি মার্কিন নৌবাহিনীর টাস্ক ফোর্স ৫৯-এর অধীন। বাহরাইনভিত্তিক এই ইউনিটটি ২০২১ সালে গঠিত হয় এবং এটি সামুদ্রিক অভিযানে চালকবিহীন ব্যবস্থার সমন্বয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম নৌ ইউনিট। চলতি বছরের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলপথে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে টাস্ক ফোর্স ৫৯ করসেয়ার মোতায়েন শুরু করে। মার্কিন নৌবাহিনীর এই সি ড্রোন ১ হাজার নটিক্যাল মাইল দূরত্ব পর্যন্ত ১ হাজার পাউন্ড বা ৪৫৩ দশমিক ৫ কেজি ওজন বহন করতে পারে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৫ নট।

ভবিষ্যৎ ব্যবহারের সম্ভাবনা

উদ্ধার অভিযানের পাশাপাশি এসব নৌযান জাহাজ চলাচলের পথ পর্যবেক্ষণ, সন্দেহভাজন নৌযান শনাক্তকরণ, নজরদারি, নৌমাইন সনাক্ত এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের মতো কাজেও ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রধানত নজরদারি ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। তবে সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে চালকবিহীন নৌযানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতারও নজির দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালির কাছে সফল এই উদ্ধার অভিযান প্রযুক্তিটির বিকাশে নতুন একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।