আকাস জোটের ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়ন: যুক্তরাজ্যের ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ
আকাস জোটের ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া তাদের সামরিক জোট আকাসের (AUKUS) আওতায় পানির নিচে পরিচালিত ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। মানববিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকল (UUV) প্রযুক্তিটি আগামী বছরের মধ্যেই প্রস্তুত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় কত হবে তা জানানো না হলেও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হ্যালি বলেছেন, তার দেশ এ প্রকল্পে ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড (২০১ মিলিয়ন ডলার) বিনিয়োগ করবে। খবর বিবিসির।

সিঙ্গাপুর সম্মেলনে ঘোষণা

শনিবার (৩০ মে) সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে তিন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা এ ঘোষণা দেন। আকাসের বিভিন্ন প্রকল্পে ধীরগতির অগ্রগতি নিয়ে সমালোচনার পর এই ঘোষণা এলো। সমালোচনার বিষয়টি স্বীকার করে হ্যালি বলেন, “অনেক দিন ধরে আকাস-এ আমরা বেশি কথা বলেছি, কিন্তু কাজ করেছি কম। আমাদের তিন সরকারের অধীনে এখন সেই পরিস্থিতি বদলেছে।”

আকাস জোটের পটভূমি

২০২১ সালে গঠিত আকাস প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে তিন দেশ পারমাণবিকচালিত সাবমেরিন উন্নয়ন এবং সামরিক প্রযুক্তি ও দক্ষতা ভাগাভাগির বিষয়ে একমত হয়েছিল। এই জোটকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক উপস্থিতি এবং দক্ষিণ চীন সাগরের মতো বিতর্কিত এলাকায় বাড়তে থাকা উত্তেজনার মোকাবিলার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পিলার টু কর্মসূচি

মানববিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকল প্রযুক্তি হলো আকাসের ‘পিলার টু’ কর্মসূচির অধীনে প্রথম প্রধান প্রকল্প। এই কর্মসূচির আওতায় অংশীদার দেশগুলো দূরপাল্লার হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, পানির নিচের রোবোটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রযুক্তির ব্যবহার

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে মানববিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকল প্রযুক্তির জন্য অত্যাধুনিক পেলোড ও সহায়ক ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। এসব ড্রোন সমুদ্রতলের অবকাঠামো রক্ষা, হামলা পরিচালনা, নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, পর্যবেক্ষণ এবং লজিস্টিকস কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে।

হ্যালি বলেন, “এসব মানববিহীন আন্ডারওয়াটার ভেহিকলের জন্য সেন্সর ও অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরি করা হবে, যা দ্রুত আমাদের বাহিনীকে উন্নত যুদ্ধপ্রযুক্তির সুবিধা দেবে। এই প্রযুক্তি এমন হুমকি মোকাবিলায়ও সহায়তা করবে, যার মধ্যে রয়েছে পানির নিচের ক্যাবল ও পাইপলাইনের নিরাপত্তা, যেগুলোর ওপর আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অনেক কিছু নির্ভর করে।”

কৌশলগত গুরুত্ব

তার মতে, এই উদ্যোগ প্রশান্ত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর এবং উত্তর মেরু সংলগ্ন জলসীমায় প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে। এক মাস আগে হ্যালি অভিযোগ করেছিলেন, যুক্তরাজ্যের উত্তরের জলসীমায় ক্যাবল ও পাইপলাইনকে কেন্দ্র করে রাশিয়া গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে। যদিও মস্কো এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

গত ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য ও নরওয়ে উত্তর আটলান্টিকে রুশ সাবমেরিন শনাক্ত এবং নজরদারির জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার উদ্দেশ্য ছিল সমুদ্রতলের ক্যাবলগুলো রক্ষা করা।

ক্যাবলের নিরাপত্তা

যুক্তরাজ্য প্রায় ৬০টি সমুদ্রতলের ক্যাবলের সঙ্গে সংযুক্ত। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাজ্যের জলসীমায় রুশ জাহাজের উপস্থিতি ৩০ শতাংশ বেড়েছে, ফলে এসব ক্যাবল ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, তাইওয়ানের আশপাশের জলসীমা এবং সুইডেনের সমুদ্রাঞ্চলে পানির নিচের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় চীনা জাহাজের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে। এছাড়া বাল্টিক সাগর অঞ্চলেও একাধিকবার সমুদ্রতলের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।