নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই পাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে আটটা থেকে রাত একটার দিকে উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় বাজারের অর্ধশতাধিক দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আহত পুলিশ কর্মকর্তা
আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন সেনবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কৃষ্ণ মোহন নাথ ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ সোহেল। তাঁদের সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পটভূমি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে ছাতারপাইয়া পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে পশ্চিমপাড়ার এক বৈদ্যুতিক মিস্ত্রি পূর্বপাড়ার এক ব্যক্তির বাড়িতে বিদ্যুতের লাইন সংযোগের কাজ করেন। ওই বাড়ি থেকে কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরি হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গৃহকর্তা ওই মিস্ত্রিকে সন্দেহ করলে বাজারে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়।
পরে মিস্ত্রি বিষয়টি পশ্চিমপাড়ার লোকজনকে জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত সাড়ে আটটার দিকে পশ্চিমপাড়ার লোকজন বাজারে জড়ো হন। একই সময় পূর্বপাড়ার বাসিন্দারাও সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় পুরো বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেনবাগ-সোনাইমুড়ী সড়কজুড়ে ইটপাটকেল ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় ছাতারপাইয়া পূর্ব বাজারের ৫০টির বেশি দোকানের শাটার ভাঙচুর করা হয়। কয়েকটি দোকানে লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রথমে সেনবাগ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে রাত একটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ঘটনার পর বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ব্যবসায়ীদের ক্ষতি
ছাতারপাইয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল আহাদ প্রথম আলোকে বলেন, সামান্য বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তাঁর নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাজারের ৫০টির বেশি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।
বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাঁর আল মদিনা ট্রেডার্সে হামলা চালিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
পুলিশের বক্তব্য
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, বৈদ্যুতিক তার চুরির অভিযোগ নিয়ে গৃহকর্তা ও এক মিস্ত্রির মধ্যে বিরোধের জেরে পূর্বপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তা আহত হন। তিনি বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে বাজারের বিভিন্ন দোকানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



