নওগাঁয় ফুয়েল অ্যাপে তেল বিক্রি শুরু, স্বচ্ছতা বাড়লেও গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি
নওগাঁয় ফুয়েল অ্যাপে তেল বিক্রি, গ্রাহকদের ভোগান্তি

নওগাঁয় ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রি শুরু: স্বচ্ছতা বাড়লেও ভোগান্তি কমেনি

নওগাঁ জেলায় ফুয়েল কার্ডের পর এবার অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির নতুন পদ্ধতি চালু হয়েছে। আজ রোববার দুপুর থেকে প্রাথমিকভাবে সদর উপজেলার ১১টি পেট্রলপাম্পে এই অ্যাপ ব্যবহার করে তেল বিক্রি শুরু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে সব গ্রাহককে ফুয়েল অ্যাপ ব্যবহার করে তেল নিতে হবে।

অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির প্রক্রিয়া ও নিয়ম

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফুয়েল অ্যাপের মাধ্যমে তেল দেওয়ার সময় গাড়ির তেলের পরিমাণ, মাইলেজ ও লাইসেন্স নম্বর সংরক্ষিত থাকবে। একটি মোটরসাইকেলকে একবারে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হবে এবং পরবর্তী ১২৫ কিলোমিটার চালানোর পরই আবার তেল নেওয়া যাবে। যদি কোনো চালক এই দূরত্ব না চালিয়ে অন্য পাম্পে তেল নিতে যান, তাহলে অ্যাপের মাধ্যমে তা ধরা পড়বে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ধীরে ধীরে জেলার সব ফিলিং স্টেশনে এই পদ্ধতি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রাহকদের অভিযোগ ও ভোগান্তি

নতুন এই অ্যাপ পদ্ধতি চালু হওয়ার পরেও গ্রাহকদের ভোগান্তি কমেনি। আজ বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের মুক্তির মোড় এলাকার সাকিব ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নেওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। চালকরা অভিযোগ করছেন যে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার পাশাপাশি অ্যাপে তথ্য দেওয়ার জন্য বাড়তি সময় ব্যয় করতে হচ্ছে, যা তাদের বিড়ম্বনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মোটরসাইকেলে তেল নিতে আসা ইউনুস মন্ডল নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘অনেকের মোটরসাইকেলে তেল থাকার পরও লাইনে দাঁড়িয়ে বারবার তেল নেয়। অ্যাপের মাধ্যমে তেল দেওয়ার ফলে কোনো চালক চাইলেই আর নির্দিষ্ট কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালানোর আগে তেল নিতে পারবেন না। আমরা প্রশাসনের কাছে এই অ্যাপব্যবস্থা কার্যকর রাখার দাবি জানাই।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আরেক গ্রাহক মাসুদ রানা বলেন, ‘তীব্র রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। নতুন করে ফুয়েল অ্যাপে তথ্য দেওয়াতে বাড়তি সময় ব্যয় হচ্ছে। এটিকে কীভাবে আরও দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকর করা যায়, সেটি নিয়ে প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

অ্যাপের ইতিবাচক দিক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

অনেকেই অ্যাপের মাধ্যমে তেল দেওয়ার বিষয়টিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই পদ্ধতি মজুত ও তেলের অপব্যবহার বন্ধ করতে সহায়ক হবে। সাকিব ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অ্যাপের মাধ্যমে তেল বিক্রির নির্দেশনা মেনে সকাল থেকেই তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কেউ চাইলেই একাধিকবার তেল নিতে পারবে না। এতে আমাদের তেল দিতেও সুবিধা হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, এই অ্যাপ পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদিন বলেন, ‘আজ সকাল থেকে সদর উপজেলার আওতাধীন ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই অ্যাপের মাধ্যমে তেল দেওয়া হচ্ছে। কেউ বাইক না চালিয়ে তেল মজুত করলে এই অ্যাপের মাধ্যমে তা ধরা পড়বে। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে আমাদের ট্যাগ অফিসার রয়েছেন, তাঁরা মনিটর করছেন। পর্যায়ক্রমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলার প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে এই অ্যাপ চালু করা হবে।’

এই নতুন পদ্ধতি জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা আনতে সহায়ক হলেও গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।