শরীয়তপুরে কৃষকদের জন্য ডিজেল সরবরাহে নতুন অ্যাপ চালু
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন কৃষকদের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি উদ্ভাবনী অ্যাপ চালু করেছে। শনিবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার প্লাবন কুমার সাহা শহরের মনোহর বাজার এলাকায় এই অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর ঘোষণা দেন।
অ্যাপের মাধ্যমে ডিজেল বিতরণ প্রক্রিয়া
এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিটি পেট্রলপাম্প ও সরকার অনুমোদিত জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্র থেকে নিবন্ধিত কৃষকদের ডিজেল সরবরাহ করা হবে। রোববার থেকে কৃষি বিভাগ ও পেট্রলপাম্পের কর্মীরা অ্যাপ ব্যবহার করে শুধুমাত্র নিবন্ধিত কৃষকদের ডিজেল দেবেন। একজন কৃষক ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ সাত লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন।
কৃষি বিভাগের নিবন্ধন ও চাহিদা
শরীয়তপুর কৃষি বিভাগ জানায়, অ্যাপে ইতিমধ্যে ১ হাজার ৩৮২ জন কৃষকের নাম নিবন্ধন করা হয়েছে। জেলার চলতি বোরো মৌসুমে ২৫ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে, যেখানে ৮২ হাজার কৃষক কাজ করছেন। এসব জমিতে ২ হাজার ৫০০টি ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, যার জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন।
জ্বালানি তেলের সামগ্রিক চাহিদা
শরীয়তপুর জেলায় সাতটি ফিলিং স্টেশন রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রল ও ১২ হাজার লিটার অকটেন প্রয়োজন। এছাড়া সরকার অনুমোদিত কয়েকটি জ্বালানি তেল বিক্রয়কেন্দ্রও সক্রিয় আছে। পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ শিকারের জন্য জেলায় ১২ হাজার জেলেনৌকা রয়েছে, যেগুলোয় প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল লাগে।
অ্যাপের কার্যকারিতা ও নিয়ন্ত্রণ
জেলা প্রশাসনের আইসিটি বিভাগ থেকে দুটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে: একটি যানবাহনের জন্য এবং অন্যটি কৃষকদের জন্য। যানবাহনের অ্যাপে প্রতিটি পেট্রলপাম্পের কর্মীরা যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর যুক্ত করে জ্বালানি তেল দিচ্ছেন। একটি যানে ২৪ ঘণ্টায় জেলার যেকোনো স্থান থেকে একবার তেল সংগ্রহ করা যাবে, এবং একটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে তেল নেওয়ার পর আরেকটি কেন্দ্রে গেলে অ্যাপের মাধ্যমে তা শনাক্ত হবে। এতে কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতে পারবেন না।
মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা
শনিবার বিকেলে মনোহর বাজারের হাজী আব্দুল জলিল ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, ডিজেল নেওয়ার জন্য কয়েক শ কৃষক অপেক্ষা করছিলেন। অনেক কৃষক সকাল থেকে ভিড় করলেও ডিজেল না থাকায় প্রথমে তাঁদের দেওয়া যাচ্ছিল না। তেল আসার পর বিকেল চারটা থেকে অ্যাপের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ শুরু হয়। সে সময় দেখা যায়, অনেক কৃষক অ্যাপে নিবন্ধিত নন, তাই কৃষি বিভাগ ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত সব কৃষককে তেল দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পাম্প কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য
হাজী আব্দুল জলিল ফিলিং স্টেশনের সহব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ডিপো থেকে প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল আমরা পাচ্ছি না, যে কারণে কৃষকদের প্রতিদিন ডিজেল দেওয়া যাচ্ছিল না। অ্যাপ চালুর পর কৃষক নিবন্ধিত কি না এবং যানবাহনে অন্য স্থান থেকে তেল সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হয়ে জ্বালানি তেল দিচ্ছি।’
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘আমরা প্রয়োজন বিবেচনা করে জ্বালানি তেল সরবরাহ করতে চাই। এ ছাড়া কোনো অসাধু চক্র যাতে জ্বালানি তেল মজুত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে অ্যাপ চালু করেছি। অ্যাপ দুটির মাধ্যমে আমাদের কাছে প্রতিদিনের তথ্য আসছে, যা দিয়ে আমরা তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
রোববার থেকে অ্যাপের মাধ্যমে কৃষকের নিবন্ধন শনাক্ত করে ডিজেল সরবরাহ করা হবে। ডিজেল নিতে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে আনতে হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও অবৈধ মজুত রোধের লক্ষ্য রয়েছে।



