নতুন কোনো সরকারি পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই সরকারের। বরং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করে দেশের পাটশিল্প পুনরুজ্জীবিত ও সম্প্রসারণের ওপর জোর দেবে সরকার। সোমবার সংসদে এ কথা জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সংসদে মন্ত্রীর বক্তব্য
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পাটখাতে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং নীতি সহায়তা প্রদান সরকারের অগ্রাধিকার।
বর্তমানে সরকার 'উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ' শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যা পাটচাষ বাড়াতে এবং খাতটির ঐতিহ্যবাহী শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করছে। প্রকল্পটি ৩০ জুন শেষ হলেও পাটচাষিদের সহায়তা অব্যাহত রাখতে রাজস্ব বাজেটের আওতায় অনুরূপ উদ্যোগ নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
বন্ধ পাটকলের অবস্থা
বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে ২৫টি পাটকলের উৎপাদন ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি সিদ্ধান্তে স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে ২০টি পাটকল লিজ চুক্তির মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হয়। মন্ত্রীর মতে, ১৪টি পাটকলের লিজ চুক্তি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে নয়টি বর্তমানে চালু আছে। বাকি ছয়টি পাটকলের লিজ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত প্রস্তাব মূল্যায়ন ও নতুন আগ্রহের আহ্বানসহ বিভিন্ন ধাপে রয়েছে।
সরকারের সংস্কার এজেন্ডা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে লিজযোগ্য সব পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
পাঁচটি পাটকল লিজ প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত, আর দুটি আইনি বিরোধ ও মামলায় জড়িত।
সরকারের অবস্থান
পাটশিল্পের পুনরুজ্জীবন নতুন সরকারি পাটকল স্থাপনের মাধ্যমে নয়, বরং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে হবে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।



