মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বেঙ্গল শিল্পালয় সফর: শিল্প সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত বেঙ্গল শিল্পালয় পরিদর্শন করেছেন। বুধবার সকালে এই সফরের সময় তিনি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং সদ্য সমাপ্ত ‘এস এম সুলতান আর্ট সংরক্ষণ প্রকল্প’ এর একটি সারসংক্ষেপ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ডিন দাও এবং মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের স্বাগত ও প্রকল্পের লক্ষ্য
বেঙ্গল শিল্পালয়ে রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ার আবুল খায়ের, মহাপরিচালক ও ট্রাস্টি লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং পরিচালক আতাউর রহমান। এস এম সুলতান আর্ট সংরক্ষণ প্রকল্প বেঙ্গল ফাউন্ডেশন দ্বারা বাস্তবায়িত হয়েছে, যা মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের তহবিলের (এএফসিপি) সহায়তায় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ। এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের শিল্পকর্মের গবেষণা ও সংরক্ষণ করা।
এই উদ্যোগে টেকসই সংরক্ষণ পদ্ধতি, কৌশল এবং সংস্কার মডেল তৈরির জন্য শিল্প-ইতিহাসের গভীর গবেষণা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সুলতানের অনন্য শিল্পদর্শন ও আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল বাংলাদেশের উদীয়মান শিল্প-সংরক্ষণকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, যা স্থানীয়ভাবে শিল্প সংরক্ষণের দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।
পরিদর্শন ও মধ্যাহ্নভোজের আনুষ্ঠানিকতা
সুলতান আর্ট সংরক্ষণ স্টুডিওতে উপস্থাপনার পরে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ফাউন্ডেশন প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন। এরপর তিনি বেঙ্গল শিল্পালয়ের কামরুল হাসান প্রদর্শনী হল পরিদর্শন করেন, যেখানে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সংগৃহীত কিছু নির্বাচিত শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়। রাষ্ট্রদূত বেঙ্গল বই-এর প্রাঙ্গণও ঘুরে দেখেন এবং ফাউন্ডেশনের প্রকাশনা, সংগীত এবং কারুশিল্পসংক্রান্ত উদ্যোগগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ছাড়াও ডেপুটি ম্যানেজমেন্ট অফিসার জেনিফার জনসন, পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কাউন্সেলর মনিকা শাই, পাবলিক এনগেজমেন্ট স্পেশালিস্ট রাইহানা সুলতানা এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের পাবলিক এনগেজমেন্ট কো-অর্ডিনেটর ফারোহা সোহরাওয়ার্দী উপস্থিত ছিলেন। এই সফরটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও শিল্প সংরক্ষণে সহযোগিতার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
