নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্প পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি ময়মনসিংহের তাঁত বোর্ডকে এই শিল্প বাঁচাতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তাঁত শিল্পের ইতিহাস
১৯৭৩ সালে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক মিস বিভা সাংমা এই তাঁত শিল্প গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭৬ সালে বিনোদিনী রেমার পরিচালনায় বিরিশিরি বহুমুখী মহিলা সমবায় সমিতির উদ্যোগে পোশাক বোনার কাজ নতুন করে শুরু হয়। সে সময় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীদের তৈরি পোশাক স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয় ছিল।
কিন্তু অর্থের অভাবে ও প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে এক সময় এই শিল্প বন্ধ হয়ে যায়। নারীরা চাষাবাদসহ অন্যান্য কাজে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৮ সালে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় ২২টি পুরাতন মেশিন দিয়ে পুনরায় কাজ শুরু হলেও আর্থিক সমস্যা ও আধুনিক মেশিনের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
ডেপুটি স্পিকারের উদ্যোগ
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এই শিল্প পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেন। তিনি ময়মনসিংহ তাঁত বোর্ডকে নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মিজানুর রহমান, তাঁত বোর্ডের সমন্বয়কারী মো. কামাল হোসেন, শিক্ষাবিদ অ্যাডভোকেট এম এ জিন্নাহ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দীন মাস্টার, মহিলা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদিকা অমিতা সাংমা, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নেত্রী লুদিয়া রুমা সাংমা ও লুদিয়া মালঞ্চ সাংমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা তাঁত ঘর পরিদর্শন করেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
মহিলা সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদিকা অমিতা সাংমা বলেন, এক সময় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারীরা এই শিল্প থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছিলেন। আধুনিকতা ও অর্থের অভাবে শিল্পটি হারিয়ে যেতে বসেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি বড় শিল্পে পরিণত করা যাবে। তিনি ডেপুটি স্পিকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ময়মনসিংহ তাঁত বোর্ডের সমন্বয়কারী মো. কামাল হোসেন বলেন, ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানাই ঐতিহ্য রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। আজ সার্ভে করা হয়েছে, পরবর্তীতে প্রধান দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই শিল্প রক্ষায় তাঁত বোর্ডের সার্বিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।



