বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে গত ১৫ বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি বলেছেন, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ছিল, যা একটি বিশেষ গোষ্ঠী লুটে নিয়েছে। এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
সংসদে বিল পাসের প্রস্তাব
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৫তম দিন বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (সংশোধন) বিল’ পাসের জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শেয়ার বাজারের ধ্বস ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি
রুমিন ফারহানা বলেন, “১৯৯৬ এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে ভয়াবহ ধ্বস নামে। এতে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্ব হারিয়েছেন। শ্বেতপত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে এই খাত থেকে এক লাখ কোটি টাকার বেশি লুট হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, এই লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কখনোই বিচারের আওতায় আনা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের আমদানি-রফতানি পরিস্থিতি সংকটে এবং পুঁজিবাজারের ওপর মানুষের আস্থা নেই। এ পরিস্থিতিতে শেয়ার বাজারকে আস্থার জায়গায় ফেরাতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শাহজাহান চৌধুরীর বক্তব্য
একই বিষয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ২০১০ সালের শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। কয়েক কোটি মানুষ তাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে। প্রস্তাবিত বিলে লুটপাটের শাস্তি মাত্র ৫ বছর জেল এবং ৫ লাখ টাকা জরিমানা রাখায় তিনি আপত্তি জানান। এছাড়া বিএসইসির সদস্যদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিলটি জনমত যাচাইয়ের জন্য পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তবে লিখিত প্রস্তাব না থাকায় ডেপুটি স্পিকার তা গ্রহণ করেননি।
অর্থমন্ত্রীর জবাব
সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “সদস্য রুমিন ফারহানা যে বক্তব্য রেখেছেন, আমি তার প্রতিটি কথার সঙ্গে একমত। শেয়ার বাজারে অতীতে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই লুটপাট ও অব্যবস্থাপনা দূর করতেই আমরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছি।”
অর্থমন্ত্রী বলেন, “১৯৯৩ সালে যখন আইনটি করা হয়, তখন মানুষের গড় আয়ু ছিল ৫৭ বছর। বর্তমানে তা বেড়ে ৭২ বছরে দাঁড়িয়েছে। যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাজে লাগানোর জন্যই এই সংশোধন প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের আকৃষ্ট করতে আমরা কাজ করছি।”
বিএনপি সরকারের আমলের প্রসঙ্গ
রুমিন ফারহানা বলেন, “বিএনপি সরকারের আমলে যেমন শেয়ার বাজার লুটপাটের সুযোগ ছিল না, এবারও তা থাকবে না। যারা লুটপাট করেছে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।” আলোচনা শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।



