দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের রপ্তানি ঝুড়ি বৈচিত্র্যকরণের প্রয়োজনীয়তা বারবার উচ্চারিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে চামড়া শিল্পের নাম প্রায়ই আসে। এই খাতটি পোশাক শিল্পের (আরএমজি) ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে এমন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু হতাশাজনকভাবে এই খাতটি এখনো তার পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারেনি।
চামড়া শিল্পের বর্তমান অবস্থা
চামড়া শিল্প বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি আয়কারী খাত। তবে নীতি-ঘাটতি, দুর্বল কমপ্লায়েন্স ও দীর্ঘস্থায়ী অব্যবস্থাপনার কারণে এই খাতটি পিছিয়ে পড়ছে। ফলস্বরূপ, যে খাতটি এখনই সমৃদ্ধ হওয়া উচিত ছিল, সেটি স্থবির হয়ে আছে। অথচ এই খাতটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে নিয়ে যেতে পারে।
প্রধান সমস্যাগুলো
পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সের অভাব, অপর্যাপ্ত অবকাঠামো, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অর্থায়নের সীমিত প্রবেশাধিকার এবং পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও মূল্য সংযোজনে অগ্রগতির অভাব—এসব সমস্যা কেবল চামড়া শিল্পের নয়, বরং দেশের সব শিল্প খাতেই বিদ্যমান। এর সঙ্গে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ব্যবসা করার পরিবেশের অবনতি যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাংলাদেশের চামড়া পণ্যের প্রতি আস্থা হারায়। ফলে চামড়া রপ্তানি আন্তর্জাতিক মান অর্জনে ব্যর্থ হয়।
সম্ভাবনা বাস্তবায়নে করণীয়
বাংলাদেশের চামড়া শিল্পে কাঁচামাল, শ্রম ও বৈশ্বিক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু স্পষ্ট নীতি নির্দেশনা ছাড়া প্রতিদিনই আমরা আঞ্চলিক প্রতিযোগীদের কাছে বাজার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছি। আসন্ন বাজেট ও শিল্প পরিকল্পনায় এই জরুরি অবস্থা প্রতিফলিত হওয়া দরকার। চামড়া ও অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতকে নীতি-অনিশ্চয়তার ফাঁদে আটকে রাখা যাবে না।
উপসংহার
বাংলাদেশ যদি সত্যিই রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেয়, তবে চামড়া খাতকে প্রয়োজনীয় স্পষ্টতা, সমর্থন ও উদ্ভাবন প্রদান করতে হবে। বাধাগুলো সরাসরি মোকাবিলা করে খাতটির প্রকৃত সম্ভাবনা উন্মোচন করতে হবে।



