চারদিন পর আখাউড়া স্থলবন্দরে ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু
আখাউড়া বন্দরে চারদিন পর আমদানি-রপ্তানি শুরু

চারদিনের বিরতির পর আখাউড়া স্থলবন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এবং সাপ্তাহিক ছুটির কারণে চারদিন বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সাথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ত্রিপুরায় মাছ রপ্তানির মধ্য দিয়ে এই বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সূচনা ঘটে, যা বন্দর এলাকায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়ে এনেছে।

বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহনের বিস্তারিত তথ্য

আখাউড়া স্থলবন্দরের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মো. রুকনুদ্দিনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সকালবেলা ১৪টি ট্রাকে করে প্রায় ১২০ টন মাছ ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। এছাড়াও, মাছ ছাড়া অন্যান্য পণ্য হিসেবে ৬টি গাড়িতে করে পাথর, শুঁটকি ও সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক ছাড়পত্র নিয়ে ভারতের দিকে রওনা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্দরের স্বাভাবিক গতি ফিরে আসার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচন ও ছুটির প্রভাব এবং দাপ্তরিক অবস্থা

আখাউড়া কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন স্পষ্ট করেছেন যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট এবং দুই দেশের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চারদিন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও, কাস্টমস এবং বন্দরের দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। তিনি উল্লেখ করেন যে, শুধুমাত্র বাণিজ্যিক কার্যক্রমই সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল, অফিসিয়াল কাজকর্ম কোনো ব্যাঘাত ছাড়াই চলমান ছিল।

ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের অবস্থা ও যাত্রী পারাপার

আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল, যার ফলে শুধুমাত্র ভোটের দিন ১২ ফেব্রুয়ারি আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পারাপার বন্ধ ছিল। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, এই সাময়িক বন্ধ থাকার পর ইমিগ্রেশন কার্যক্রমও দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে এবং যাত্রী চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।

এই উন্নয়নের ফলে আখাউড়া স্থলবন্দর এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো প্রতিবেদন করছে। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পুনরায় শুরু হওয়ায় ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সম্প্রদায়ের মধ্যে আশাবাদী মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।