বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার বনে গেছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। গত শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ার নাসডাকে ১৫০ ডলার দরে লেনদেন শুরু হয়। এরপর স্পেসএক্স ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের স্পেসএক্সে থাকা মালিকানার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৬৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর সঙ্গে তাঁর টেসলার শেয়ারের মূল্য যোগ করে দেখা যায়, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ দশমিক শূন্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। টেসলায় তাঁর শেয়ারের মূল্য প্রায় ২৮০ বিলিয়ন ডলার।
স্পেসএক্সের প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) ফলে মাস্কের সম্পদে ১৮০ বিলিয়ন ডলারের বেশি যোগ হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী পরবর্তী পাঁচজন বিলিয়নিয়ারের সম্মিলিত সম্পদের চেয়ে বেশি সম্পদের মালিক তিনি। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ তাইওয়ান, আয়ারল্যান্ড কিংবা সুইডেনের জাতীয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চেয়ে বেশি।
ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার
ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে এক ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের মালিক ইলন মাস্ক। স্পেসএক্সের শেয়ার বাজারে ছাড়ার কারণে তিনি শুধু বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হননি, বরং এই কোম্পানির শেয়ারধারী হাজারো কর্মী নতুন করে কোটিপতি বনে গেছেন। কয়েকজন নতুন বিলিয়নিয়ারেও পরিণত হয়েছেন।
শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ১৬০ ডলারের কিছু ওপরে গিয়ে থেমে যায়। ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে। অন্যদিকে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি শেয়ার প্রায় ৪০৬ ডলারে পৌঁছেছে।
মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির ইতিহাস
২০১২ সালে ইলন মাস্ককে প্রথম বিলিয়নিয়ার হিসেবে ঘোষণা করেছিল ব্লুমবার্গ ও ফোর্বস। সে সময় ফোর্বস তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করেছিল। ২০১৯ সালে তাঁর সম্পদ ২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। পরের বছর টেসলার শেয়ার ভাগ (স্টক স্প্লিট) করার পর তাঁর সম্পদের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। ফোর্বসের হিসাবে তখন মাস্ক বিশ্বের পঞ্চম ‘সেন্টিবিলিয়নিয়ার’-এ পরিণত হন। মানে যার সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এরপরের ছয় বছরে তাঁর সম্পদ প্রায় ১০ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাস্কের সম্পদের এই বৃদ্ধি এত দ্রুত যে গত দশকে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিরা দ্রুতই তাঁর তুলনায় পিছিয়ে পড়েন। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস, মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস ও বিলাসবহুল পণ্য প্রতিষ্ঠান এলভিএমএইচের প্রধান বার্নার্ড আর্নল্টকে মাস্ক ছাড়িয়ে যান।
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকা
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন ল্যারি পেজ। তবে তাঁর সঙ্গে মাস্কের মোট সম্পদের ব্যবধান অনেক। ফোর্বসের হিসাবে তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৯৫ বিলিয়ন ডলার।
ল্যারি পেজের পর আছেন আরেক গুগল সহপ্রতিষ্ঠাতা সার্জেই ব্রিন, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও ওরাকলের প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন। ফোর্বসের হিসাবে শুক্রবার পর্যন্ত তাঁদের প্রত্যেকের সম্পদের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
তবে ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বিল গেটস যদি এত বিপুল পরিমাণ অর্থ দান না করতেন, তাহলে তাঁর সম্পদের পরিমাণ বর্তমানে ৪৬৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাত।
সূত্র: সিএনবিসি



