প্রবাসী আয়ের প্রবাহে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী অবস্থানে
দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও এখন শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য থেকে জানা গেছে, মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। একই সময়ে, এপ্রিল মাসের শুরুতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি দাঁড়িয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট (গ্রস) বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী, ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৬১ বিলিয়ন ডলার। এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।
মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ের রেকর্ড প্রবাহ
অন্যদিকে, মার্চ মাসে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ দেশের ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। গত বছর মার্চ মাসে প্রবাসীরা দেশে ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার প্রেরণ করেছেন। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩.৩০ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে, মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৪% বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি
শুধু মাসিক হিসাবেই নয়, চলতি অর্থবছরেও প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স প্রাপ্তির পরিমাণ ২৬.২১ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২১.৭৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ২০.৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দৃষ্টিভঙ্গি ও অর্থনীতিবিদদের মতামত
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রবাসী আয় বৃদ্ধির কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রণোদনা, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ এই বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, যদি রেমিট্যান্স প্রবাহের এই শক্তিশালী প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে এটি বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় গতি সঞ্চার করতে পারে।



