মার্চ মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন মাইলফলক
চলতি মার্চ মাসের প্রথম ২৪ দিনে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ৩ বিলিয়ন বা ৩০৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রবাহ অব্যাহত থাকলে মার্চ মাস একক মাস হিসেবে রেমিট্যান্স প্রাপ্তিতে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।
ঈদের সময় প্রবাসীদের অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধি
সাধারণত পবিত্র ঈদুল ফিতরের মাসে রেমিট্যান্সের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। পরিবারের ঈদের খরচ মেটাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ সময় বেশি পরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান। চলতি মার্চ মাসেও এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ডের দিকে ইঙ্গিত করছে।
ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে, যার পরিমাণ ছিল ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স গত ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ গত জানুয়ারিতে ৩১৭ কোটি ডলার হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রবাসী আয়ের চিত্র
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৫০ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ ১০ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি, যখন প্রবাসী আয় ছিল ২ হাজার ১২৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনীতির উপর প্রভাব পড়ছে। শীর্ষস্থানীয় আট অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে এক সভায় পরামর্শ দিয়েছেন যে, আসন্ন ধাক্কা সামলাতে রিজার্ভ ধরে রাখা জরুরি।
অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেছেন, বৈশ্বিক সংকটের মাত্রা এখনো পরিষ্কার না হলেও রিজার্ভ ও ডলারের উপর চাপ আসতে পারে। তাই সুদহার কমাতে এখনই নীতি সুদহারে হাত দেওয়া ঠিক হবে না। বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সুদহার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে সংকট কেটে গেলে।
এছাড়া, জ্বালানির জন্য মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা করতে হবে বলে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও তা গ্রাহক পর্যায়ে চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে।



