ঈদে প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে কৃষি ব্যাংকের বিশেষ উদ্যোগ
ঈদের সময় মানুষের খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। এই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাড়াতে দেশের ব্যাংকগুলো নানা ধরনের অফার ও প্রচারণা চালিয়ে থাকে। এবার কৃষি ব্যাংকও এই ধারায় অংশ নিয়ে ৪০ দিনব্যাপী 'কৃষি ব্যাংক রেমিট্যান্স উৎসব' চালু করেছে, যা গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
পুরস্কার বিতরণের বিশদ পরিকল্পনা
এই উৎসবের মাধ্যমে কৃষি ব্যাংক তাদের সবগুলো বিভাগীয় কার্যালয়ে তিনটি করে পুরস্কার প্রদান করবে। পাশাপাশি দেশের সব শাখা থেকে একযোগে মোট ১১টি পুরস্কার দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এই কার্যক্রম থেকে ৩৮ জন গ্রাহককে পুরস্কৃত করা হবে। পুরস্কারের তালিকায় মেগা পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি মোটরসাইকেল, যা একজন ভাগ্যবান গ্রাহক পাবেন।
কিভাবে অংশ নেবেন?
এই উৎসবে অংশ নিতে হলে কৃষি ব্যাংকের গ্রাহক হতে হবে। পুরস্কার বিতরণ করা হবে লটারির মাধ্যমে, যার ফলে প্রবাসী আয় পাঠিয়ে অংশ নিতে নির্দিষ্ট কোনো অর্থের প্রয়োজন হবে না। এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এবং চলবে ৩০ মার্চ পর্যন্ত। কৃষি ব্যাংকে সরাসরি স্পট ক্যাশে প্রবাসী আয় গ্রহণ করলে অথবা গ্রাহকের নিজস্ব হিসাবে প্রবাসী আয় জমা হলে লটারি জিতার সুযোগ পাওয়া যাবে। লটারি অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ বা পরবর্তী কোনো সুবিধাজনক দিনে।
পুরস্কারের বিস্তারিত বিবরণ
লটারির মাধ্যমে মোট ৩৮ জন গ্রাহক পুরস্কৃত হবেন। এর মধ্যে ব্যাংকের ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, কুমিল্লা, ফরিদপুর, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও সিলেট—এই ৯টি বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রতিটিতে ৩ জন করে মোট ২৭ জন গ্রাহককে স্যামসাং ব্র্যান্ডের স্মার্টফোন পুরস্কার দেওয়া হবে। বিভাগভিত্তিক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের জন্য এই স্মার্টফোনগুলো বরাদ্দ রয়েছে।
এ ছাড়া দেশের সব শাখা মিলিয়ে আরও ১১ জন গ্রাহককে পুরস্কার দেওয়া হবে। এর মধ্যে মেগা পুরস্কার হিসেবে একজন পাবেন হেলমেটসহ ১৫০ সিসির একটি মোটরসাইকেল। অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে ফ্রিজ, টিভি এবং স্মার্টফোন, যা গ্রাহকদের ঈদের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে সহায়ক হবে।
কৃষি ব্যাংকের রেমিট্যান্স অর্জনে সাফল্য
ব্যাংক সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসেই কৃষি ব্যাংক নির্ধারিত প্রবাসী আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ১৭১ শতাংশ অর্জন করেছে। প্রবাসী আয় আহরণে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংক প্রথম স্থানে রয়েছে এবং দেশের সব ব্যাংকের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে প্রতিযোগী ব্যাংকগুলোর মধ্যে চতুর্থ অবস্থানে থাকলেও ২০২৫ সালে কৃষি ব্যাংক দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে এবং এখনো সেই অবস্থান ধরে রেখেছে।
ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বক্তব্য
কৃষি ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রতিবছর দুই ঈদকে সামনে রেখে নানা উপহার নিয়ে ব্যাংকটি রেমিট্যান্স উৎসব আয়োজন করে, যা রেমিট্যান্স ও আমানত সংগ্রহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। রমজান ও ঈদুল ফিতরের সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বজনদের কাছে বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠান। মার্চের দ্বিতীয়ার্ধে ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হবে বলে এ সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়বে। বৈধ পথে প্রবাসী আয় পাঠাতে গ্রাহকদের উৎসাহিত করা এবং প্রবাসীদের পরিবারকে ঈদের বাড়তি আনন্দ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
এই উদ্যোগটি কৃষি ব্যাংকের গ্রাহক সেবা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরছে।
