চট্টগ্রামে জাল রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর ও ভুয়া কম্পিউটার জেনারেটেড রিসিট তৈরি করে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা আত্মসাতের দায়ে সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির নাম মো. ফজলে আজিম। তিনি অগ্রণী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় কর্মরত ছিলেন। একই মামলায় তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়
মঙ্গলবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় দেন। এদিন আসামি ফজলে আজিম পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা মূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, মোহাম্মদ রেজাত হোসেন, হামদে রাব্বি মুন্না ও রিপায়ন বড়ুয়া।
বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি বলেন, আদালত সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৮ বছরের কারাদণ্ড এবং আত্মসাৎ করা ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সব সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।
মামলার বিবরণ
মামলার নথি সূত্র জানায়, ২০১১ সালে অগ্রণী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় বৈদেশিক রেমিট্যান্স প্রদানের দায়িত্বে ছিলেন ফজলে আজিম। ওই সময় তিনি বিভিন্ন ভুয়া রেমিট্যান্স রেফারেন্স নম্বর তৈরি করেন। পরে জাল কম্পিউটার জেনারেটেড রিসিট ও ট্রান্সফার ভাউচার ব্যবহার করে ব্যাংকের ১৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৬৫ টাকা উত্তোলন ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন।
এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ ২০১৯ সালের ২০ মার্চ চান্দগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযুক্তদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।
সাক্ষ্য-প্রমাণ ও রায়
সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাময়িক বরখাস্তকৃত ব্যাংক কর্মকর্তা ফজলে আজিমকে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আসামি ফজলে আজিম খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় থানার মাস্টারপাড়া কলেজ রোড এলাকার একেএম শাহ আলমের ছেলে।



