অর্থাভাবে মেরামত হয়নি ঝড়ে ভাঙা ঘর, অন্ধ স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন
অর্থাভাবে মেরামত হয়নি ঝড়ে ভাঙা ঘর, অন্ধ স্বামী ও ৩ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন সাহারা বেগম। উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরফৈজুদ্দিন গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন একটি জরাজীর্ণ ঘরেই তাদের বসবাস। গত মাসে কালবৈশাখী ঝড়ে ঘরটি প্রায় সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হলেও অর্থের অভাবে এখনো তা মেরামত করতে পারেননি তিনি।

সংসার চালাতে হিমশিম

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাহারা বেগম সেলাইয়ের কাজ ও অন্যের বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে কোনোমতে সংসার চালান। স্বামী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের পুরো দায়িত্ব তার কাঁধেই। ঝড়ে ঘরের চাল উড়ে যায় এবং চারপাশের বেড়া, দরজা ও জানালা ভেঙে পড়ে। পরে কিছু মানুষের সহযোগিতায় চালে অল্প কিছু টিন লাগানো হলেও ঘরটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

অর্ধসমাপ্ত মেরামত

সাহারা বেগম বলেন, অনেক কষ্টে কিছু টাকা জোগাড় করে ঘর মেরামতের কাজ শুরু করেছিলেন। পরে স্থানীয় সমাজসেবক আবদুর রহমান সোয়েব বন্ধুবান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ১৩ হাজার টাকা সংগ্রহ করে সহায়তা করেন। কিন্তু বেড়া, টিন, নির্মাণসামগ্রী ও মিস্ত্রির খরচ জোগাতে না পারায় এক মাস ধরে কাজ অর্ধসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলেই তিন সন্তান ও অন্ধ স্বামীকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয়। কখন ঘর ভেঙে পড়ে, সেই ভয় সব সময় তাড়া করে।

প্রয়োজন ২২ হাজার টাকা

আবদুর রহমান সোয়েব জানান, ঘরটি পুরোপুরি মেরামতে প্রায় ২২ হাজার টাকা প্রয়োজন। তিনি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি

মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও শিক্ষক মহিবুল্লাহ ইলিয়াস এবং জাগ্রত মনপুরা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলামও সাহারা বেগমের পরিবারের জন্য সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, জীবনসংগ্রামে লড়াই করা এই অসহায় পরিবারের পাশে রাষ্ট্র ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের এগিয়ে আসা জরুরি।