ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা। এর ফলে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমেছে ৩৫৭ টাকা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নতুন এই দর ঘোষণা করে, যা আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হবে।
নতুন দাম নির্ধারণ
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এখন ১ হাজার ৫২৮ টাকা। এর আগে গত মাসে এই সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া অটোগ্যাসের (যানবাহনে ব্যবহৃত এলপিজি) দাম প্রতি লিটার ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে কমিয়ে ৭০ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসি জানিয়েছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১২৭ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগে ছিল ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।
দাম কমানোর কারণ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামার পর থেকেই বিশ্ববাজারে এলপিজির দাম কমতে শুরু করে। বিইআরসি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে থাকে। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। প্রতি মাসে এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো, যা সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি। আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করা হয়।
বাজারে নির্ধারিত দাম বাস্তবায়ন
এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালির কাজে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রতি সিলিন্ডারে বেশি দাম নিচ্ছেন এলপিজি বিক্রেতারা। এদিকে সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৮২৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি।



