দিনাজপুরের হাট-বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি
দিনাজপুরে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি

দিনাজপুরের হাট-বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি

দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ২২টি হাট-বাজারে এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্রেতারা জানিয়েছেন, ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে সিলিন্ডারের মূল্য দাঁড়াচ্ছে ২১০০ থেকে ২২০০ টাকায়।

দাম বৃদ্ধির পেছনের কারণ

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়িয়েছে। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা। গত মাসে এর দাম ছিল ১ হাজার ৩৪১ টাকা, অর্থাৎ ১২ কেজিতে দাম বেড়েছে ৩৮৭ টাকা। তবে নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ১ হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রির কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকটের অজুহাতে দাম বাড়িয়ে রাখা হচ্ছে। এতে প্রতিটি সিলিন্ডারের দাম সর্বোচ্চ ৮১৩ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খুচরা বিক্রেতাদের বক্তব্য

শুক্রবার সকালে উপজেলার ১০ মাইল বাজারে এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, "ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। আমি প্রতি সিলিন্ডারে মাত্র ৫০ টাকা লাভ রেখে বিক্রি করছি।" নাম না প্রকাশ করার শর্তে আরেক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, "আগে ডিলাররা ১০-১২টি করে সিলিন্ডার দিতেন, এখন মাত্র ৩-৪টি সিলিন্ডার দেন। তারা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। আমরা খুচরা ব্যবসায়ীরা অল্প লাভে ব্যবসা চালাচ্ছি।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্রেতাদের ক্ষোভ

ক্রেতা আমিনুল ইসলাম বলেন, "ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের জিম্মি করে অবৈধভাবে এই গ্যাসের দাম বেশি নিচ্ছেন। এটি ভোক্তা অধিকারের লঙ্ঘন।" ভোক্তাদের এই অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চেয়ে দিনাজপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রশাসনের পদক্ষেপ

কাহারোল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোকলেদা খাতুন মীম বলেন, "যেকোনো ধরনের মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ যদি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি রাখে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এই পরিস্থিতিতে ভোক্তারা আশা করছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা হবে।