ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকটে র্যাবের ব্যাপক অভিযান
ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট নিরসনে সারাদেশে সমন্বিত ও কঠোর অভিযান চালাচ্ছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। বুধবার (৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় র্যাবের মিডিয়া উইং থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশব্যাপী ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট রোধে র্যাব সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত তথ্য
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে রাজধানীর তেজগাঁও, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এবং টঙ্গী কাঁচাবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে এক লাখ ১৪ হাজার ৪৪২ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৭১ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২২ হাজার ৬৪২ লিটার তেল জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যান্য এলাকায় অভিযান
এর আগে, মঙ্গলবার র্যাব-৮ এর তত্ত্বাবধানে পটুয়াখালী সদর এলাকায় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। ওই সময় তিনটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সচেতন ও সতর্ক করার পাশাপাশি ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইদিন চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন এলাকায় অভিযান চালিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিএসটিআই অনুমোদন না থাকা, খোলা বাজারের তেল বোতলজাত করে বিভিন্ন কোম্পানির লেবেল লাগানো এবং মান নিয়ন্ত্রণের কোনও সার্টিফিকেট না থাকার অপরাধে এক হাজার ৪২ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছেন।
এছাড়া নাসিরাবাদ এলাকায় মাবিয়া স্টোরের গোডাউনে কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশে ৯ হাজার ৬০০ লিটার এবং কর্ণফুলী কমপ্লেক্স এলাকায় খাজা স্টোরের গোডাউনে ১২ হাজার লিটার ভোজ্যতেলের অবৈধ মজুতের অপরাধে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে র্যাব।
র্যাবের কৌশল ও পদক্ষেপ
র্যাবের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী অসাধু মজুতদার ও কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। র্যাবের এই অভিযান ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট দ্রুত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।



