যশোরে ভোজ্যতেল মজুতের অভিযানে ৪৩ হাজার লিটার তেল জব্দ, মালিক জরিমানা
যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় একটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ৪৩ হাজার ৪৪ লিটার ভোজ্যতেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধভাবে এসব তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করায় মেসার্স নওয়াব আলী গোডাউনের মালিক হাসিব ইমামীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের জেলা কার্যালয় এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নীলগঞ্জ এলাকার ওই গোডাউনে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ২১১ ব্যারেল ভোজ্যতেলের মজুত ছিল, যার মধ্যে সয়াবিন ৮১ ব্যারেল, পামওয়েল ৯০ ব্যারেল এবং সুপার ওয়েল ৪০ ব্যারেল। প্রতিটি ব্যারেলে ২০৪ লিটার করে তেল ছিল। জব্দকৃত ৪৩ হাজার ৪৪ লিটার তেলের বাজারমূল্য প্রায় ৯১ লাখ টাকা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভোজ্যতেলের বাজার অস্থির করতে এবং অধিক মুনাফার জন্য এসব তেল মজুত করা হয়েছিল। এই অপরাধে প্রতিষ্ঠানের মালিক হাসিব ইমামীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মজুতকৃত তেল দ্রুত বাজারে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বাজারে সংকটের পটভূমি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল সরবরাহ একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে ভোজ্যতেল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো। তারা সরকারের কাছে প্রতি লিটার তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব রেখেছে। এ দফায় দাম না বাড়ালে সরবরাহ আর স্বাভাবিক করা হবে না—খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের এমন কথাও বলেছেন সরবরাহকারী কোম্পানির প্রতিনিধিরা। এতে বাজারে সংকট দেখা দিয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা বাজারে কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে ভূমিকা রাখছে।



