দেশের ভোজ্যতেল বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারসাজিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত মানববন্ধনে এসব কথা বলেন বক্তারা।
মূল্যবৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ
বক্তারা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে সয়াবিন তেল প্রতি লিটারে ৩০ থেকে ৩৪ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কোথাও আবার বোতলজাত তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ ভোক্তারা প্রতারিত হচ্ছেন এবং অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছেন।
ক্যাব নেতাদের বক্তব্য
ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে খোলা সয়াবিন তেলের মূল্য ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের মূল্য ১৭০ টাকা হলেও বাজারে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা পাম তেল ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব অনিয়ম বাজারে তদারকির ঘাটতির প্রমাণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের চলমান অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি সংকটের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান।
ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ শওকত আলী খান ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া, ভোক্তা অধিকার রক্ষায় নজরদারি বাড়ানো এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সিন্ডিকেট ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবীর ভূইয়া বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও করে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দেশের কিছু রিফাইনারির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ভোক্তা অধিদপ্তরের কার্যক্রম কমে গেছে। তিনি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোক্তা অধিকার সংস্থাকে আরও সক্রিয় করার দাবি জানান। বাজারে খোলা তেল বিক্রি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ক্যাবের ৬ দফা দাবি
এ সময় ক্যাব ৬ দফা দাবি তুলে ধরে। তা হলো:
- সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।
- সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চক্র চিহ্নিত করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
- বাজারে নিয়মিত, কার্যকর তদারকি ও অভিযান জোরদার করতে হবে।
- কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
- নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করতে হবে।
- ভোজ্যতেলের জন্য ফুড-গ্রেড পাত্র ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।
এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ভোজ্যতেল বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানান। তারা বলেছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হলে ভোক্তারা আরও বিপদে পড়বেন এবং অর্থনৈতিক চাপ বাড়বে।



