রাজধানীতে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, সপ্তাহে ১০-৩০ টাকা বৃদ্ধি
রাজধানীতে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, সপ্তাহে ১০-৩০ টাকা বৃদ্ধি

রাজধানীতে সবজির দাম ঊর্ধ্বমুখী, সপ্তাহে ১০-৩০ টাকা বৃদ্ধি

রাজধানীর কুড়াতলী ও ঢালী এলাকার কাঁচাবাজারে সবজির দাম গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতিবেদকের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি সবজির দাম ১০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছে।

সবজির দামের হালনাগাদ তথ্য

সোমবার (৬ এপ্রিল) বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, শসা ও কাঁচা মরিচের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

  • বেগুন: বর্তমানে ৭০ টাকা কেজি, গত সপ্তাহে ছিল ৫০ টাকা।
  • গোল বেগুন: ৮০-৯০ টাকা কেজি, আগে ৭০ টাকা।
  • ঢেঁড়স: ৮০ টাকা কেজি, গত সপ্তাহে ৫০ টাকা।
  • কাঁচা মরিচ: ১৪০ টাকা কেজি, আগে ১০০-১২০ টাকা।
  • করলা: ৮০ টাকা কেজি, পূর্বে ৭০ টাকা।

তবে কিছু সবজির দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। টমেটো কেজিপ্রতি ৩০-৩৫ টাকা, আলু ২০ টাকা এবং পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাছ ও মুরগির দামেও ঊর্ধ্বগতি

সবজির পাশাপাশি মাছ ও মুরগির দামেও বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে ১৮০ টাকা কেজি, যা গত সপ্তাহে ১৭০ টাকা ছিল। সোনালী মুরগির দাম ৩৪০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে, আগে যা ৩২০ টাকা ছিল।

মাছের দামেও গড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। রুই মাছ (দেড় কেজি সাইজ) ৩৫০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৮৫০ টাকা কেজি এবং তেলাপিয়া ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ ও বিক্রেতাদের ব্যাখ্যা

দাম বৃদ্ধিতে ক্রেতারা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কুড়াতলীতে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী নয়ন বলেন, "গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে সবজি কিনতাম, এখন ৯০-১০০ টাকা দিতে হচ্ছে। সীমিত আয়ের মানুষের জন্য এটি কষ্টকর।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গার্মেন্ট শ্রমিক রুদ্র ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, "বাজারে এসে দাম শুনলে দম বন্ধ হয়ে আসে। এভাবে চললে গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হব।" আরেক ক্রেতা রবিন যোগ করেন, "সাধারণ ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছে, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো বাড়তি খরচের চাপে পড়েছে।"

বিক্রেতারা এই মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছেন। শাজাহান নামে এক বিক্রেতা বলেন, "সরবরাহ কম থাকায় দাম বাড়বেই। জ্বালানি সংকটের কারণে পরিবহণ ব্যয় বেড়েছে, আমরা বেশি দামে কিনছি, তাই কম দামে বিক্রি করা সম্ভব নয়।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, কয়েকদিন পর নতুন সবজি এলে দাম কিছুটা কমতে পারে।

আলু-পেঁয়াজের পাইকারি বিক্রেতা সজীব হোসেন জানান, পরিবহণ ব্যয় বস্তায় ১২০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় তারা বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণসমূহ

ব্যবসায়ীদের মতে, বৃষ্টিপাত, পরিবহণ ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং সবজির মৌসুমের শেষ পর্যায়ে পৌঁছানো এই দাম বৃদ্ধির মূল কারণ। এই সমন্বিত প্রভাব রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্যের দামকে চাপের মুখে ফেলেছে, যা ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতাকে প্রভাবিত করছে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সাধারণ মানুষ, যাতে বাজার নিয়ন্ত্রণে রেখে দাম স্থিতিশীল করা যায় এবং নাগরিকদের আর্থিক দুর্ভোগ লাঘব হয়।