সোনার বাজারে বড় ধরনের দরপতন: প্রতি ভরিতে ৯,২১৪ টাকা কমেছে দাম
সোনার দামে বড় দরপতন: প্রতি ভরিতে ৯,২১৪ টাকা কমেছে

সোনার বাজারে বড় ধরনের দরপতন: প্রতি ভরিতে ৯,২১৪ টাকা কমেছে দাম

দেশের বাজারে টানা ছয়বার দাম বৃদ্ধির পর অবশেষে বড় ধরনের দরপতনের দেখা মিলেছে সোনার দামে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রতি ভরি সোনার দাম ৯ হাজার ২১৪ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন দাম বর্তমানে সারাদেশে কার্যকর রয়েছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

দরপতনের কারণ ও পটভূমি

বাজুসের তথ্যমতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবের কারণে দাম কমানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ৩ মার্চ মঙ্গলবার সোনার দাম এক দফায় ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। তবে ৪ মার্চের এই বিশাল হ্রাসের ফলে পূর্বের উচ্চমূল্য অনেকটাই সমন্বিত হয়েছে, যা বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বর্তমানে বাজুসের নির্ধারিত নতুন দাম

বাজুসের নির্ধারিত নতুন দামগুলো নিচে দেওয়া হলো:

  • ২২ ক্যারেট (প্রতি ভরি): ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা।
  • ২১ ক্যারেট (প্রতি ভরি): ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা।
  • ১৮ ক্যারেট (প্রতি ভরি): ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা।
  • সনাতন পদ্ধতি (প্রতি ভরি): ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকা।

বাজারের পরিসংখ্যান ও বর্তমান চিত্র

২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৩৭ বার সোনার দাম পরিবর্তন করেছে বাজুস। এর মধ্যে ২৪ বার দাম বাড়ানো হলেও আজকের এই বড় হ্রাসের ঘটনাটি ছিল ১৩তম বার দাম কমানোর ঘটনা। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালেও সোনার দাম ৯৩ বার ওঠানামা করেছিল, যার মধ্যে বৃদ্ধির রেকর্ড ছিল ৬৪ বার। এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, সোনার বাজার ক্রমাগত পরিবর্তনশীল অবস্থায় রয়েছে, এবং বর্তমান দরপতন বাজারে একটি উল্লেখযোগ্য মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরবরাহ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাপের সমন্বয়ে এই দরপতন ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে দামের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। সাধারণ ক্রেতারা এখন কম দামে সোনা ক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেন, যা অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।