রমজানে রাজধানীর বাজারে তিন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে, কমেছে চাল-পেঁয়াজ
রমজানে রাজধানীর বাজারে তিন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

রমজানে রাজধানীর বাজারে তিন নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে

পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে তিনটি নিত্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল, চিনি এবং ব্রয়লার মুরগি। অন্যদিকে, কিছু পণ্যের দাম কমার প্রবণতাও লক্ষ্য করা গেছে, যার মধ্যে চাল, মসুর ডাল এবং পেঁয়াজ উল্লেখযোগ্য। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাওরানবাজার, শান্তিনগর এবং তুরাগ এলাকার নতুন বাজারে সরেজমিন খোঁজ নিয়ে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

কোন পণ্যের দাম কেমন?

বাজারে পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেছে। ডিলার পর্যায়ে দাম কিছুটা বাড়লেও ভোক্তা পর্যায়ে তা এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তবে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে, গতকাল প্রতি লিটার ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যা গত সপ্তাহে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা লিটারে বিক্রি হতো। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ঈদের আগে সয়াবিন তেলের কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং এজন্য বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা সতর্ক করে দিয়েছেন যে সরকারের এখনই এই ব্যাপারে ব্যবস্থা না নিলে ঈদের আগে সয়াবিন তেল নিয়ে বাজারে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ব্রয়লার মুরগির দাম রমজানের শুরুতে বাড়লেও পরে কমে গিয়েছিল, কিন্তু এখন আবার বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে গতকাল ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি জাতের মুরগির দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শান্তিনগর বাজারের মুরগি বিক্রেতা আমিনুর বলেন, রমজান শুরুর পর মুরগির চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও কমে গিয়েছিল, কিন্তু এখন আবার চাহিদা বেড়েছে এবং ঈদের আগে মুরগির দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

চিনির দাম গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কম থাকলেও গতকাল পণ্যটির দাম কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে। খোলা চিনি কেজিতে ২ টাকা বেড়ে তা ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরকারের বিপণন সংস্থা টেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজারদরের প্রতিবেদনেও পণ্যগুলোর দাম বাড়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যগুলোর দাম বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর এই সময় প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা এবং চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

দাম কমার তালিকা ও অন্যান্য পণ্য

দাম কমার তালিকায় রয়েছে চাল, মসুর ডাল এবং পেঁয়াজ। এছাড়া, অন্যান্য পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে বলে বাজার সূত্রে জানা গেছে। মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের দাম উলটো কমেছে। বর্তমানে ফার্মের প্রতি ডজন সাদা ডিম ৯০ থেকে ৯৫ টাকা এবং বাদামি ডিম ১০৫ থেকে ১১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে খামারি পর্যায়ে আরো কম দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বরকতপুর এলাকার আলম লেয়ার ফার্মের স্বত্বাধিকারী আলম মণ্ডল জানান, খামার থেকে তারা প্রতি ডজন সাদা ডিম ৬৬ টাকা এবং বাদামি ডিম ৭৮ টাকায় বিক্রি করছেন, যা তাদের ব্যাপক লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতামত

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামার প্রভাব নিত্যপণ্যের বাজারেও পড়ছে। এছাড়া, রমজানের মাঝামাঝিতে এসে অনেকে ঈদের জন্য বাড়তি কেনাকাটা করছেন, ফলে কিছু কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়েছে এবং দামও বাড়ছে। তারা আরো উল্লেখ করেছেন যে সরকারের উচিত বাজার নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে ভোক্তারা ন্যায্য মূল্যে পণ্য কিনতে পারেন।