রমজানে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি, সবজি-মুদি সস্তা, মাছে কিছুটা চড়া
রমজানে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি, সবজি-মুদি সস্তা

রমজানে বাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি, সবজি-মুদি সস্তা

রমজান মাস চলছে। সাধারণত এ সময়ে দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যায়। তবে এবার অধিকাংশ পণ্যের দাম স্থিতিশীল এবং কিছু পণ্যের দাম কমেছে বলে জানা গেছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সবজির বাজারে দাম কমেছে

রায়সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী সুয়া মিয়া জানান, এবার রমজানে কোনও জিনিসের দাম বাড়েনি বরং দেশি পেঁয়াজ, রসুন, আদার দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমেছে। এ কারণে ক্রেতাদের মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেখা গেছে। অন্যদিকে, চাহিদা কমে যাওয়ায় লেবু, বেগুন, কাঁচামরিচসহ রোজা সংশ্লিষ্ট পণ্যের দামও কমে এসেছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি অন্তত ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে বলে বিক্রেতারা জানিয়েছেন।

রোজার আগের দিন যে লেবু হালিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একইভাবে শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। রায়সাহেব বাজারের সবজি ব্যবসায়ী জালাল মিয়া জানান, এখন সবজির আমদানি বেশি, এ জন্য দাম কমে গেছে।

কাঁচামরিচ ও অন্যান্য সবজির দাম হ্রাস

রোজার শুরুতে কাঁচামরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা উঠেছিল। তবে বর্তমানে সেই দাম অনেকটাই কমেছে। বিভিন্ন বাজারে ভালো মানের কাঁচামরিচ খুচরায় বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজি। আর পাড়া-মহল্লার ভ্যানে সাধারণ মানের মরিচ পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়। অন্যদিকে, রোজাকে কেন্দ্র করে ফুলকপি, মুলা ও শিমের মতো কিছু সবজির চাহিদা কমে গেছে। ফলে এসব পণ্যের দামও নেমে এসেছে। বর্তমানে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই দামে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে মুলা, গাজর, পেঁপে, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা কম থাকায় বাজারে এসব পণ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মুদি পণ্যে কিছুটা স্বস্তি

এদিকে, মুদি পণ্যের বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ছোলার দাম কমে বর্তমানে কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা রোজার শুরুতে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা। খোলা পাম তেলের দাম লিটারে পাঁচ টাকা কমে নেমেছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়। তবে সয়াবিন তেল, চিনি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় এবং খোলা সয়াবিন তেল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা লিটারে।

মাছের দামে কিছুটা বৃদ্ধি

তবে মাছের বাজারে কিছুটা দাম বৃদ্ধি দেখা গেছে। রায়সাহেব বাজারের মাছ বিক্রেতা জয়নাল জানান, সব মাছেই কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা দাম বেড়েছে। এখন তেলাপিয়া মাছ বিক্রি করছি কেজি ২২০ টাকা, রুই ছোটটা ২৬০ টাকা, বড়টা ৩২০ টাকা, পাঙাশ বড়টা ২২০ টাকা ছোটটা ১৮০ টাকা করে বিক্রি করছি। প্রত্যেকটারই কেজিতে কিছুটা দাম বেড়েছে।

মাংস ও ডিমের বাজারে স্বস্তি

মাংস ও ডিমের বাজারে স্বস্তি দেখা গেছে। কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে; যা একই বাজারে রোজার আগে ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা করে বিক্রি করতে দেখা গেছে। রায়সাহেব বাজারের এক খাসির মাংস বিক্রেতা জানান, সিজন পরিবর্তনের জন্য দাম কমছে। সামনে আরও কমবে। তবে অপরিবর্তিত রয়েছে গরুর মাংসের দাম। রমজানের আগের কয়েক সপ্তাহ ধরে গরুর মাংস ৮০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা গেছে; যা এখনও একই দামে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে প্রতি কেজি ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়।

বাজারে ক্রেতা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এখানে বাজার করতে আসা রায়হান নামে এক ক্রেতা জানান, আসলেই দাম কিছুটা কম মনে হচ্ছে, এমন থাকলে ভালো। চাই আরও দাম কমুক।