রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি: ফলের মূল্য আকাশছোঁয়া, ভোক্তাদের কষ্ট
পবিত্র মাহে রমজান মাস এলেই নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে, এটা এখন এক প্রকার স্বাভাবিক রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। চলতি রমজান মাসেও এই প্রবণতা থেকে বাদ যায়নি, নিত্যপণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ফলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কিছু কিছু ফলের ক্ষেত্রে দাম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজারে ফলের মূল্য পরিস্থিতি
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ফলের দামে ব্যাপক ওঠানামা চলছে। প্রকার ভেদে আপেল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮০ থেকে ৪৪০ টাকায়, কমলা ৩৫০ টাকা, আনার ৫৬০ টাকা, নাশপাতি ৪৪০ টাকা, মালটা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, এবং খেজুর ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, আঙ্গুরের দামও ৪৫০ টাকা কেজিতে পৌঁছেছে।
দেশি ফলের মধ্যে সবরি কলা প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং সাগর কলা ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আনারস প্রতি পিস ৬০ থেকে ৮০ টাকা, বরই প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ১৫০ টাকা, এবং পেয়ারা ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা দরে পাওয়া যাচ্ছে। তরমুজের দামও আকাশছোঁয়া, প্রতি কেজি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে, যদিও বাজারে এই ফলের প্রাপ্যতা সীমিত।
বিক্রেতা ও ভোক্তাদের মতামত
বিক্রেতারা দাম বৃদ্ধির জন্য চাহিদা বাড়াকে দায়ী করছেন। ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, “আড়তেই থেকেই দাম নির্ধারণ হয়। সেখানে দাম বেশি রাখার কারণে আমাদের বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ফলের দাম কেজিতে ১০০ টাকা বেড়েছে। আমাদের এখানে করার কিছু নাই। বেশি দামে কিনলে আমরা তো লসে বিক্রি করতে পারি না।”
অন্যদিকে, ভোক্তারা এই দাম বৃদ্ধিকে রমজানের রেওয়াজ হিসেবে দেখছেন এবং সরকারি নিয়ন্ত্রণের অভাবের কথা উল্লেখ করছেন। কাওরান বাজারে ফল কিনতে আসা আব্দুর রহমান বলেন, “দাম বাড়ার বিষয়টি আমরা মেনেই নিয়েছি। রমজানের আগে থেকেই দাম বাড়ার খবর শুনছিলাম, এখন সেটাই কার্যকর। আমাদের মতো সাধারণ ভোক্তাদের চিৎকার করে কোনও লাভ নেই।”
বনশ্রীর বাসিন্দা সেলিম আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “নিম্ন কিংবা নিম্ন মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে ফলের দাম। ইফতারির সময় তারা ফল খেতে চাইলেও পারবে না। এটা তো তাদের জন্য কষ্টের। আসলে আমাদের বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনও সিস্টেমই কাজ করে না। সকালে জরিমানা করে বিকালে আগের অবস্থায়।”
দাম বৃদ্ধির প্রভাব ও সমাধান
এই দাম বৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক চাপই সৃষ্টি করছে না, বরং সামাজিক বৈষম্যকেও বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ফল কেনা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভোক্তারা দাবি করছেন যে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি, যাতে রমজানের মতো পবিত্র মাসে সবাই ন্যায্য মূল্যে পণ্য কিনতে পারে।
উল্লেখ্য, রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি একটি পুরনো সমস্যা, কিন্তু এবারও এর সমাধান না হওয়ায় ভোক্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরবরাহ চেইন উন্নত করা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়।
