ঝিনাইদহে এমপির ঝটিকা বাজার পরিদর্শন: লেবু-শসার দাম নিয়ে প্রশ্ন ও ক্ষোভ
ঝিনাইদহে এমপির বাজার পরিদর্শন: লেবু-শসার দাম নিয়ে ক্ষোভ

ঝিনাইদহে সংসদ সদস্যের ঝটিকা বাজার পরিদর্শন: লেবু ও শসার দাম নিয়ে তীব্র ক্ষোভ

‘যে লেবু কয়দিন আগে হালিপ্রতি ২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেটা এখন ৬০ টাকা কেন?’— চলমান রমজান মাসে ঝিনাইদহের কালিগঞ্জের স্থানীয় বাজারে ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে এভাবেই লেবু ও শসার অতিরিক্ত দাম শুনে ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু তালিব। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি এই বাজার সফরে যান এবং ক্রেতাদের কাছ থেকে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি অভিযোগ শোনেন।

বাজার পরিস্থিতি ও ক্রেতাদের অভিযোগ

রমজান মাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কালিগঞ্জের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে জানান স্থানীয় ক্রেতারা। তারা সংসদ সদস্যকে কাছে পেয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন। এসময় আবু তালিব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি কালিগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখেন এবং পণ্যের মান ও দাম যাচাই করেন।

সংসদ সদস্য সরাসরি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং পণ্যের ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের ব্যবধান খতিয়ে দেখেন। তিনি মূল্য তালিকা পরীক্ষা করেন এবং অসঙ্গতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। এই বাজার তদারকির সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কালিগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন এবং স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

সংসদ সদস্যের সতর্কবার্তা ও প্রতিশ্রুতি

বাজার মনিটরিং শেষে আবু তালিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে দাম রাখা অত্যন্ত অমানবিক। রমজান মাসে মানুষ যাতে কষ্ট না পায়, সেজন্য আমরা মাঠে নেমেছি। শসা ও লেবুর দাম অযৌক্তিকভাবে বেশি রাখা হচ্ছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আমি স্পষ্ট বলতে চাই, শুধু রমজান নয়, বছরের প্রতিটি দিন যেন দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে। অসাধু মুনাফাখোরদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

তার এই বক্তব্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে বলে জানা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, সরাসরি সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে।

প্রশাসনের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝটিকা অভিযান ও কঠোর তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তারা অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন।

স্থানীয় বাজার কমিটির সদস্যদের সাথে আলোচনা করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করা
  • মূল্য তালিকা স্পষ্টভাবে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা
  • অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া
  • বিকল্প বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করা

ঝিনাইদহের কালিগঞ্জে এই ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত করেছে। সাধারণ মানুষ এখন আশা করছেন যে সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের যৌথ তদারকিতে রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।