রংপুরে টিসিবি পণ্য কেনার লাইনে ধাক্কাধাক্কিতে দুই নারী আহত
রমজানের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর পণ্য কেনার সময় ধাক্কাধাক্কির ঘটনায় দুই নারী আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে, যখন শত শত ক্রেতা সকাল থেকে অপেক্ষার পর পণ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের পরিচয়
স্থানীয় সাক্ষী ও ক্রেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, টিসিবি রংপুর প্রেস ক্লাবের সামনে একটি ট্রাকের মাধ্যমে বিশেষ প্যাকেজ বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। এই প্যাকেজে ছিল ২ কেজি ডাল, ১ কেজি চিনি, ২ লিটার ভোজ্যতেল, ১ কেজি ছোলা এবং আধা কেজি খেজুর, যার মূল্য ধার্য করা হয়েছিল ৫৯০ টাকা। তবে ট্রাকটি নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পরে, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পণ্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
এসময় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শত শত ক্রেতা সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। পণ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে দুই নারী আহত হন। আহতরা হলেন মমতাজ বেগম ও আনোয়ারা বেগম, যারা উভয়েই নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। জনতার ধাক্কায় তারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টিসিবির এই পণ্য বিতরণ কার্যক্রমে বেশ কিছু অনিয়ম লক্ষ্য করা গেছে। যদিও ৪০০ জনের জন্য পণ্য বরাদ্দ ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল, কিন্তু মাত্র ৩০০ জনকে পণ্য দেওয়া হয়েছে। ডিলার ম্যানেজার আফজাল প্রথমে সকলকে পণ্য দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে স্বীকার করেন যে পণ্যের সংকট রয়েছে।
এছাড়াও, ট্রাকটিতে পণ্য বিক্রি তদারকির জন্য নিয়োজিত একজন টিসিবি ট্যাগ অফিসার ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লাইনে দাঁড়ানো দুই নারী দাবি করেছেন যে তারা একজন টিসিবি কর্মকর্তাকে দুটি পণ্যের প্যাকেট নিয়ে তাড়াহুড়ো করে চলে যেতে দেখেছেন।
ক্রেতাদের ক্ষোভ ও বক্তব্য
বিভিন্ন মহল্লা থেকে আসা ক্রেতারা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। গুপ্তপাড়া এলাকার আসলাম মিয়া বলেন, কিছু লোক লাইনে দাঁড়ানো ছাড়াই পণ্য পেয়েছেন, অন্যদিকে ধৈর্য ধরে অপেক্ষাকারী অনেকেই বঞ্চিত হয়েছেন। নিউ সেনপাড়ার মারুফা বেগম সকাল ৯টা থেকে অপেক্ষা করলেও তার ভাগ্য অনিশ্চিত বলে জানান, এবং পক্ষপাতিত্বের সমালোচনা করেন।
টিসিবি ডিলারের বক্তব্য
টিসিবি ডিলার মোস্তাক হোসেন জানান, শহরের ১৪টি স্থানে এই পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে এবং বিতরণে কোনো অনিয়ম হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ ও ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অনেকে। এই ঘটনা টিসিবির পণ্য বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
