ভাড়া কমায় বন্ধ স্পিডবোট, দুর্ভোগে যাত্রীরা
ভাড়া কমায় বন্ধ স্পিডবোট, দুর্ভোগে হাজারো যাত্রী

রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে অনুকূল আবহাওয়ায় যাত্রীদের ভিড় বাড়ছিল ঘাটে। তবে বেলা বাড়লেও যাত্রী পারাপারের কোনো সুযোগ ছিল না। মঙ্গলবার (১২ মে) পূর্বঘোষণা ছাড়াই চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপের প্রধান নৌরুট কুমিরা-গুপ্তছড়া ঘাটে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে দুই পাড়ের হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন।

যাত্রীদের অভিযোগ

ঘাটে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও স্পিডবোট বন্ধের কোনো কারণ জানানো হয়নি বলে জানান যাত্রীরা। পরে জোয়ার বাড়লে সার্ভিস বোট (কাঠের তৈরি ট্রলার) চলাচল শুরু হয়। তখন অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে সার্ভিস বোটে যাত্রা করেন। ঘাটে আসা যাত্রী আবির ইসলাম (৪০) বলেন, 'জরুরি কাজে পারাপারের জন্য ঘাটে এসে দেখি স্পিডবোট চলছে না। এমন ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে।'

ভাড়া পুনর্নির্ধারণের প্রভাব

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার কুমিরা-গুপ্তছড়া নৌরুটের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি এই রুটে স্পিডবোটে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হলেও নতুন প্রজ্ঞাপনে ভাড়া নির্ধারণ করা হয় ২৬০ টাকা। এরপর থেকেই মূলত স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মালিকপক্ষের বক্তব্য

স্পিডবোট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আর কে এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী জগলুল হোসেন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, 'নির্ধারিত ভাড়ায় স্পিডবোট চালিয়ে আমাদের পোষাবে না। তাই বন্ধ রাখা হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'নোয়াখালী-হাতিয়া নৌরুটের ভাড়া ৩২৫ টাকা হলেও একই দূরত্বের কুমিরা-গুপ্তছড়ার ভাড়া কীভাবে ২৬০ টাকা হয়? পুনর্নির্ধারিত ভাড়ায় আমাদের লোকসান হবে। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। সমাধান না হলে লোকসান দিয়ে তো আর স্পিডবোট চালানো সম্ভব নয়।'

সার্ভিস বোটের ভাড়া বৃদ্ধি

সার্ভিস বোটের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে জগলুল হোসেন বলেন, 'তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।' তবে কীভাবে ও কার সিদ্ধান্তে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু উল্লেখ করেননি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারি নির্দেশনা

সরকার নির্ধারিত ভাড়াতেই স্পিডবোট চালাতে হবে জানিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল বলেন, 'সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলছি। দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।'

যাত্রীদের ক্ষোভ

স্পিডবোট বন্ধের ঘটনায় যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অভিযোগ করে তারা বলেন, পূর্বঘোষণা ছাড়াই স্পিডবোট বন্ধ রাখার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। মালিকপক্ষ প্রায়ই নিজেদের সিদ্ধান্তে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখে। সম্প্রতি জ্বালানি তেলের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সময়ও কয়েক দফা স্পিডবোট চলাচল বন্ধ ছিল। এর স্থায়ী সমাধান দরকার।