জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর গত কয়েক দিনে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আর জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, যদিও মধ্যপ্রাচ্য সংকট ঘিরে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে এখনো অস্থিরতা চলছে।
সরকারের অফিস আদেশ
আজ বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক অফিস আদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার কথা জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম এপ্রিলে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা, পেট্রলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা আর অকটেনের দাম ১৪০ টাকা করা হয়েছে। মে মাসে এই দামেই জ্বালানি তেল বিক্রি হবে।
পূর্ববর্তী সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার পর জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অস্থিরতা দেখা দেয়। বাংলাদেশের বাজারেও এর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। পেট্রলপাম্প থেকে জ্বালানি তেল নিতে লোকজনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। দেড় মাসের বেশি সময় এই অবস্থা চলার পর ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরকার। এরপর ফিলিং স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়, মানুষের ভোগান্তিও কমে আসে।
তবে জ্বালানি তেলের দাম একবারে লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি নিয়ে অনেকের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের ইতিহাসে এক লাফে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয় ২০২২ সালের আগস্টে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ডিজেলের দাম সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়। যদিও সমালোচনার মুখে একই মাসে ৫ টাকা কমানো হয়েছিল দাম। আর এবার এপ্রিলে মূল্যবৃদ্ধির পর দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে পৌঁছেছে জ্বালানি তেল।
মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি
জ্বালানি তেলের মধ্যে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ শুরু করে সরকার। সে হিসাবে আগের মাসে আমদানি করা জ্বালানি তেলের খরচ বিবেচনায় নিয়ে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। মার্চের মতো এপ্রিলেও শুরুতে দাম অপরিবর্তিত রাখে নতুন সরকার। তবে ১৯ এপ্রিল থেকে নতুন দাম কার্যকর করা হয়। এতে ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা হয়। অকটেনের দাম ১২০ থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়। পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়। আর কেরোসিনের দাম ১১২ থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়।



