দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাথাপিছু আয় তিন হাজার মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বুধবার (১০ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত জিডিপির সাময়িক হিসাবে এই তথ্য উঠে এসেছে।
মাথাপিছু আয়ে উল্লম্ফন
বিবিএস প্রকাশিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, দেশের মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা, যা ডলারের হিসাবে ৩ হাজার ২০ ডলার। এর আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা।
জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও অর্থনীতির আকার
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক গতি ফিরে এসেছে। জিডিপির আকার অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়েছে। ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা মার্কিন ডলারে প্রায় ৫০১ বিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা (৪৫৬ বিলিয়ন ডলার)।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জিডিপির আকার ও মাথাপিছু আয়েও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
মূল্যস্ফীতির প্রভাব ও কাঠামোগত চাপ
তবে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় প্রকৃত আয় কতটা বেড়েছে, সেটি পৃথকভাবে বিশ্লেষণের বিষয়। সামগ্রিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অর্থনীতির আকার এবং মাথাপিছু আয়ে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়ার প্রবণতা অর্থনীতির ভেতরের কাঠামোগত চাপ ও সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।



